ক্লাস শুরু হয়নি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিবচরের আট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মাদারীপুর
প্রকাশিত: ০৬:০৭ এএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

করোনা মহামারির কারণে প্রায় দেড় বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশের স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মাদারীপুর জেলায় শিক্ষা কার্যক্রম চালু হলেও শিবচর উপজেলার পদ্মা চরাঞ্চলের ২৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে আটটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যাওয়ার রাস্তাসহ বিদ্যালয়ের মাঠ তলিয়ে যাওয়ায় বিদ্যালয়গুলোর শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম এখনও শুরু করা সম্ভব হয়নি।

বাকি ১৮টি বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু হলেও বন্যায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। দীর্ঘ দেড় বছর পর বিদ্যালয় চালু হলেও পাঠদান নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে ওই আট প্রতিষ্ঠানে। এতে হতাশ ওই সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

যেসব বিদ্যালয়ের এখনো ক্লাস শুরু হয়নি- বন্দরখোলা ইউনিয়নের কাজির সুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রাজারচর পল্লী মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরজানাজাত ইউনিয়নের ২৪ নং উত্তর চরজানাজাত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৫ নং নারিকেল বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব খাস বন্দরখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মজিদ সরকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাঠালবাড়ী ইউনিয়নের কাঠালবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাগুরখন্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

jagonews24

শিবচর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, শিবচরের পদ্মা নদীর চরাঞ্চলের চার ইউনিয়নের আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ও বারান্দা পানি-কাদায় নিমজ্জিত। প্রতিষ্ঠানে আসার রাস্তাঘাটও তলিয়ে গেছে। ফলে এসব স্কুলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। এছাড়া উপজেলার বাকি ১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হলেও বন্যার পানির কারণে রাস্তাঘাট ভেঙে যাওয়ায় বিদ্যালয়ে আসতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। ওই বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী উপস্থিতিও খুব কম। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দ্রুত রাস্তাঘাট ও বিদ্যালয় সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।

মাদবরচর ইউনিয়নের ৩২ নং পুরান কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা (ভারপ্রাপ্ত) লতা খাতুন জানান, বন্যার পানিতে রাস্তাঘাট ও বিদ্যালয়ের মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিতি খুবই কম।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের বিকল্প পাঠদানের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট ও বিদ্যালয় দ্রুত মেরামত করারও আশ্বাস দেন তিনি।

এ কে এম নাসিরুল হক/এআরএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]