এক রাতে এতোগুলো বৈদ্যুতিক মিটার ভাঙলো কারা?

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৯:৪৬ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

চাঁপাইনবাবগঞ্জ রাতের আঁধারে কে বা কারা ১৮টি বৈদ্যুতিক মিটার ভেঙে ফেলেছে। সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে পৌর এলাকার আরামবাগ নতুনগলি মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীদের কয়েকজন নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) বিরুদ্ধে এ অভিযোগ এনেছেন। এ ঘটনায় সদর থানায় মৌখিক অভিযোগও দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ওই গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, নয়টি বাড়ির ১৮টি মিটার ও বক্স ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। কয়েকটি মিটারের স্ক্রিন নষ্ট হয়ে গেছে। মহল্লার জালাল উদ্দিন ভিলার চারটি, মো. জাকারিয়ার বাড়ির তিনটি, মো. শামসুদ্দিনের বাড়ির দুইটি, ইউসুফ আলীর দুইটি, বাহার আলীর বাড়ির দুইটি, রেজাউল করিমের দুইটি এবং মারুফ, সৈয়দ আলী ও নওশাদ আলীর বাড়ির মিটার ভেঙেছে দুর্বৃত্তরা।

jagonews24

জাকারিয়া নামের একজন ভুক্তভোগী জাগো নিউজকে বলেন, কিছুদিন আগে মিটার পরিবর্তনের জন্য বাড়িতে আসেন নেসকোর লোকজন। ওইসময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। মোবাইলে একজন আমার সঙ্গে কথা বলে মিটার পরিবর্তন করে প্রি-প্রেইড মিটার লাগানোর জন্য বলেন। আমি ওইসময় মিটার লাগাতে অপারগতা জানালে পরবর্তী সময়ে আমাদের সমস্যা হবে বলে হুমকি দেন। ওইদিন এলাকার আরও কয়েকটি বাড়িতে প্রি-পেইড মিটার লাগাতে এসে বাধাগ্রস্ত হন নেসকোর লোকজন।

‘মঙ্গলবার সকালে বাড়ির বাইরে এসে দেখি আমার মিটার ভাঙা। রাতের আঁধারে কে বা কারা এগুলো ভেঙে ফেলেছে। তবে এ কাজ নেসকোর লোকজন বা দুর্বৃত্তদের দিয়ে নেসকোর লোকজন করিয়েছে বলে সন্দেহ করছি।’

jagonews24

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মিটার লাগাবো না তাতো বলিনি। আগে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিল্প-কলকারখানায় এ প্রিপ্রেইড মিটার লাগানো হোক। তারপর আমরা এ মিটার লাগাবো।’

সৈয়দ আলী নামের একজন বলেন, রাত আনুমানিক দুইটা থেকে পৌনে তিনটার দিকে কিছু ভাঙার শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। তবে আমরা বাইরে এসে কাউকে দেখিনি। সকালে উঠে দেখি আমারসহ অনেকের বাড়ির মিটার ভাঙা।

jagonews24

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, মিটার ভাঙার ঘটনায় এলাকাবাসীর কাছ থেকে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নেসকোর চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিদ্যুৎ বিতরণ শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম রেজার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

সোহান মাহমুদ/এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]