যেভাবে রোহিঙ্গা নেতা হন মুহিবুল্লাহ

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:২২ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১

অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহ (৫০)। বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে নয়টার দিকে অজ্ঞাতনামাদের গুলিতে নিহত হন তিনি। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (৮ এপিবিএন) পুলিশ সুপার (এসপি) শিহাব কায়সার খান জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

কিন্তু প্রশ্ন হলো কে এই মুহিবুল্লাহ? কিভাবে সাধারণ রোহিঙ্গাদের নেতা হলেন তিনি?

জানা যায়, মুহিবুল্লাহ মিয়ানমারের আরকান মংডু এলাকার মৌলভী ফজল আহম্মদের ছেলে। ১৯৯২ সালে মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে আসেন তিনি। এরপর থেকেই উখিয়ার ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় বসবাস করতেন। এক পর্যায়ে ১৫ জন সদস্য নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন ‘আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যানরাইটস’ (এআরএসপিএইচ)। জনশ্রুতি রয়েছে এ সংগঠনের ব্যানারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতা করছিলেন তিনি।

২০১৭ সালে রোহিঙ্গার ঢল নামার পর থেকে পরিচিতি বাড়ে মুহিবুল্লাহর। এরপরে তিনি আলোচনায় আসেন ২০১৯ সালে। সে বছর জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ১৭ দেশের যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ২৭ প্রতিনিধি সাক্ষাৎ করেন সেখানে যোগ দেন মুহিবুল্লাহ। একই বছর রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসার দুই বছর পূর্তিতে আয়োজন করেন মহাসমাবেশের।

মুহিবুল্লাহর মূল উত্থান শুরু হয় যখন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্ত হয় জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। রোহিঙ্গাদের বক্তব্য জানতে মুহিবুল্লাহর সংগঠন ‘এআরএসপিএইচ’ এর সঙ্গে যোগাযোগ করে ‘ইউএনএইচসিআর’। ইংরেজি ভাষা এবং রোহিঙ্গাদের ব্যবহৃত ভাষা জানায় দুই পক্ষের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে ওঠেন তিনি। ধীরে ধীরে প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন বিদেশিদের।

জানা যায়, ২০১৮ সালের পর জাতিসংঘ মহাসচিবসহ যত বিদেশি প্রতিনিধি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গেছেন তাদের প্রত্যেকের সঙ্গেই রোহিঙ্গা প্রতিনিধি হিসেবে মুহিবুল্লাহ ও তার সঙ্গীদের দেখা করানো হয়েছে। এই মুহিবুল্লাহই মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিবকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে মুহিবুল্লাহকে একাধিকবার আটক করে র‌্যাব। কিন্তু আবার প্রশাসনের নির্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে।

জানা যায়, চলতি বছরের আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে খবর পাওয়া যায় যে ২২ আগস্ট প্রত্যাবাসনের দিন ঠিক করেছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। এ খবর পাওয়ার পরই মুহিবুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে এনজিওগুলো। ধীরে ধীরে মুহিবুল্লাহ রোহিঙ্গাদের প্রধান পাঁচ নেতার একজন হয়ে ওঠেন।

রোহিঙ্গাদের একটি সূত্রের দাবি, ক্যাম্পগুলোতে মুহিবুল্লাহ বিরোধী অন্য একটি সশস্ত্র গ্রুপও সক্রিয় রয়েছে। কিন্তু মুহিবুল্লাহর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সুসম্পর্ক থাকায় আলোচনায় ছিল তার সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস। আর এ কারণে সাধারণ রোহিঙ্গারাও মুহিবুল্লাহর ভক্ত ছিলেন।

জানা যায়, মুহিবুল্লাহ সবসময় বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসন দাবি করে এসেছেন। এ কারণে মিয়ানমার সরকারেরও কালো তালিকায় ছিলেন তিনি।

এফআরএম/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।