করোনায় বন্ধ টাঙ্গাইলের ২০২ কিন্ডারগার্টেন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৬:০৫ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১

করোনায় টাঙ্গাইলের ২০২ কিন্ডারগার্টেন স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। এতে বেকার হয়ে পড়েছেন জেলার সাড়ে চার হাজার শিক্ষক। কোনো কোনো স্কুলের জায়গায় এখন চাষ হচ্ছে সবজি। এছাড়া সংসার চালাতে অনেক শিক্ষক জড়িয়ে পড়েছেন ভিন্ন পেশায়।

টাঙ্গাইল জেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন সমন্বয় কমিটি সূত্রে জানা গেছে, করোনায় দীর্ঘ দেড় বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। ১২ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর দেখা গেছে জেলার ৮১৯ কিন্ডারগার্টেনের মধ্যে ২০২টির খোলা যাচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা অন্যত্র চলে গেছে। এছাড়া বেতন বন্ধ থাকায় শিক্ষকরা অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন।

jagonews24

সূত্র আরও জানায়, সবচেয়ে বেশি কিন্ডারগার্টেন বন্ধ হয়েছে মির্জাপুরে। এ উপজেলায় ১১০টির মধ্যে ৩৫ কিন্ডারগার্টেন বন্ধ হয়েছে। এছাড়া সখীপুরে ১১০টির মধ্যে ২৯, কালিহাতীতে ৮১টির মধ্যে ২৮, ঘাটাইলে ৯৪টির মধ্যে ২৪ কিন্ডারগার্টেন এখন পুরোপুরি বন্ধ। গোপালপুর উপজেলায় সবচেয়ে কম কিন্ডারগার্টেন বন্ধ হয়েছে। এ উপজেলায় ৩০টির মধ্যে বন্ধ হয়েছে মাত্র চারটি।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের পিচুরিয়া হাবিব প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাবিবুর রহমান জানান, করোনায় আয়-রোজগার না থাকায় প্রথম দিকে ঋণ করে শিক্ষকদের বেতন দিয়েছি। দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে স্কুলের তিনটি টিনের ঘর বিক্রি করতে হয়েছে। একপর্যায়ে স্কুল বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি। ফলে শিক্ষকরাও বেকার হয়েছেন। স্কুলের জায়গায় এখন সবজি চাষ হচ্ছে।

jagonews24

টাঙ্গাইল শহরের আকুর টাকুর পাড়া এলাকার কর্ডোভা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল করোনার কারণে বন্ধ হয়েছে। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহিন আল মাসুদ জানান, ২০১৪ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করি। করোনায় স্কুলটি পুরোপুরি বন্ধ করতে হয়েছে। এতে স্কুলের ১৮ শিক্ষক বেকার এবং আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থীও চলে গেছে অন্যত্র।

আশেকপুর এলাকার রেডিয়্যান্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ একাডিমর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ফরিদ হোসেন জানান, ২০০০ সালে স্থাপিতের পর করোনার আগেও প্লে-পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত স্কুলে শিক্ষার্থী সংখ্যা ছিল প্রায় তিন শতাধিক। শিক্ষক ছিলেন ১২ জন। করোনায় দীর্ঘ দেড় বছর শিক্ষার্থীরা বেতন না দেওয়ায় বন্ধ করে দিতে হয়েছে স্কুলটি। এতে বেকার হয়ে পড়েছেন শিক্ষকরা। প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কয়েকজন শিক্ষক করটিয়ার একটি হোমিও চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

jagonews24

হলি ফেইথ পাবলিক স্কুল ও টিচিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সাহীমা খাতুন জানান, ১৯৯৮ সালে স্থাপিত হয়ে করোনার আগ পর্যন্ত বেশ ভালোভাবেই চলছিল। প্লে-পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থী ছিল প্রায় দুই শতাধিক। শিক্ষক ছিল ১২ জন। করোনার কারণে স্কুলটি বন্ধ করতে হয়েছে। ফলে শিক্ষকরাসহ আমি বেকার হয়ে পড়েছি।

জেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক নাসির আহমেদ জানান, করোনাকালে বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর কতগুলো কিন্ডারগার্টেন বন্ধ ও চালু রয়েছে সেটি এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

আরিফ উর রহমান টগর/এএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।