ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হয়েও নিয়মিত পরিষদে যান মেম্বার
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় হত্যা মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি হয়েও নিয়মিত পরিষদে আসা-যাওয়া করছেন ফরিদ মিয়া নামের এক ইউপি সদস্য (মেম্বার)। এতে জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৫ মে সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরের মরদেহ অষ্টগ্রামের একটি খাল থেকে উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি প্রথম অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করে পুলিশ আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। পুলিশের তদন্তে মরদেহ শনাক্ত হওয়ার পর ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন নিহতের মা রাফিয়া বেগম।
ওই মামলা সিআইডিকে হস্তান্তরের পর তদন্ত শেষে নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ফরিদ মিয়াসহ আটজনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ২৭ আগস্ট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। ওই চার্জশিটে ফরিদ মিয়া ওরফে ফরিদ মেম্বারকে পলাতক হিসেবে উল্লেখ্য করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি আবেদন করে সিআইডি। আদালত ফরিদ মেম্বারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
ফরিদ মেম্বার ছাড়া অন্য আসামিরা এ মামলায় জামিনে রয়েছেন। তবে আদালত পরোয়ানা জারি করলেও দীর্ঘদিনেও গ্রেফতার হননি ফরিদ মেম্বার। পুলিশের খাতায় পলাতক থাকলেও নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদে আসেন তিনি। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সভায়ও যোগ দিচ্ছেন।

ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মামুনুর রশীদ রতন জাগো নিউজকে বলেন, আমি অসুস্থ থাকায় এমনিতে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে কম যাই। ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে টিকাদান কর্মসূচিতে গিয়েছিলাম। সেদিন ফরিদ মেম্বারকে একটি কক্ষে বসে থাকতে দেখেছি।
৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ওলিউর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদটি ৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত। তাই প্রতিদিনই ফরিদ মেম্বার পরিষদে আসেন এবং খোশগল্প করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফরিদ মিয়া সরাসরি দেখা করার কথা বলেন। তবে দেখা করার জন্য বারবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম বলেন, ফরিদ মিয়া গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি। তাকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসজে/জিকেএস