ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডবের ঘটনায় গণশুনানি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১০:০৯ এএম, ১৮ অক্টোবর ২০২১

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে গত ২৬-২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে তাণ্ডবের ঘটনায় গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সার্কিট হাউজে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এবং আদিবাসী ও সংখ্যালঘু-বিষয়ক সংসদীয় ককাসের যৌথ উদ্যোগে এই গণশুনানির আয়োজন করা হয়। বেলা ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মোট ১৪ জন লিখিত ও মৌখিক সাক্ষ্য দেন।

বাংলাদেশে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে তৈরি গণকমিশন এসব সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন গণকমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক সংসদীয় ককাসের আহ্বায়ক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মোহাম্মদ নূরুল আনোয়ার, গণকমিশনের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ, মাওলানা জিয়াউদ্দিন। সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণকালে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন তারা।

এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য র. আ. ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী প্রায় ৫০ মিনিট ধরে দেওয়া সাক্ষ্যে তাণ্ডবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

সংসদ সদস্য উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী তার সাক্ষ্যে বলেন, ‘২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙার খবরে আমি হেফাজত নেতা মোবারক উল্লাহর সঙ্গে কথা বলি। তিনি আমাকে জানান বাধা দিলেও কেউ কথা শুনছে না। ওই দিনই দল ভারি করে রেলওয়ে স্টেশনে হামলা করা হয়।’

সাক্ষ্য দেওয়ার সময় উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, মাইকে ঘোষণা দিয়ে তাণ্ডবকারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে পুলিশ। আমার ইউনিভার্সিটির সামনে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল রক্ষায় যে মাওলানা কাজ করেছে তার নামে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাজিদুল ইসলাম তার সাক্ষ্যে জানান, ২৫ তারিখ রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওষুধ নিতে বের হয়ে দেখেন, দলে দলে লোকজন ট্রাকে করে আসছেন। অনেকে হেলমেট পড়া ছিল।

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা দিলীপ নাগ বলেন, ‘আমার গ্রামের বাড়ির এলাকায় হামলা হলে ইউএনও, ওসিকে ফোনে জানালে তারা নিরাপত্তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এমনকি তারা নিজেরাই বিপদগ্রস্ত আছেন বলে জানান।’

জীবন আচার্য্য নামে এক যুবক জানান, আনন্দময়ী কালীবাড়িতে হামলার সময় তার ওপর আঘাত আসে। ২৮ মার্চ সংসদ সদস্যের অফিসে হামলা হতে দেখে ৯৯৯-এ কল করা হলে সব জায়গায় পুলিশ আছে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।

মাওলানা ক্বারি আনিসুর রহমান জানান, সবকিছুর নেতৃত্বে ছিল হেফাজত। মসজিদের মাইকে ‘হাইয়ালাল জিহাদ’ বলতে শুনেছেন তিনি।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার অভিযোগ করেন, পুলিশ প্রশাসনকে বারবার বলা হলেও তারা সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি। হরতালের নামে মৌলবাদীরা অরাজকতা সৃষ্টি করে ইসলাম-বিরুদ্ধ কার্যকলাপ চালিয়ে মানুষের জীবনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এআরএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]