চোখের চিকিৎসার জন্য ভিক্ষা করেন রঞ্জিত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৫:৩০ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০২১

চার বছর আগে চোখে ছানি পড়েছে। তবে টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেননি রঞ্জিত। যখন চোখে দেখছিলেন না, তখন স্ত্রীর জমি ও গহনা বিক্রি করে চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। তাই চোখের চিকিৎসার জন্য মাঝে মধ্যে ভিক্ষা করেন তিনি। এক লাখ টাকার ব্যবস্থা হলে চিকিৎসা করিয়ে দুই চোখে পরিপূর্ণভাবে দেখতে পাবেন রঞ্জিত।

তার পুরো নাম রঞ্জিত দাস (৪০)। শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর এলাকার ভাষানচন্দ্র দাসের ছেলে তিনি। তবে আট মাস বয়স থেকে নড়িয়া উপজেলার ফতেজঙ্গপুর ইউনিয়নের কানারগাঁও গ্রামে বসবাস রঞ্জিতের।

পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর এলাকায় জন্ম রঞ্জিতের। যখন আট মাস বয়স তখন তার মা মারা যান। পরে তার বাবা আরেকটি বিয়ে করেন।

রঞ্জিত অসহায় হয়ে পরলে নড়িয়া উপজেলার কানারগাঁও গ্রামের রেনু বালা শাখারী তাকে নিয়ে লালন-পালন করে বড় করেন। পরে রেনু তার ছোট মেয়ে শিখা রানী শাখারীকে রঞ্জিতের সঙ্গে বিয়ে দেন। তখন রঞ্জিত একটি হোটেলের কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। রঞ্জিত-শিখার দাম্পত্য জীবনে ঝিলিক দাস (১২) ও দীপা দাস (৫) নামের দুটি সন্তান রয়েছে।

২০১৮ সালে হঠাৎ বাম চোখে, পরে ডান চোখে ছানি পড়ে রঞ্জিতের। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেননি তিনি। যখন চোখে দেখছিলেন না, তখন স্ত্রীর জমি ও গহনা বিক্রি করে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু চিকিৎসা করিয়ে কোনো লাভ হয়নি। পরে সব হারিয়ে চোখের চিকিৎসার জন্য মাঝে মধ্যে ভিক্ষা করেন রঞ্জিত। চিকিৎসকরা বলছেন, মাত্র এক লাখ টাকার ব্যবস্থা করা গেলে অস্ত্রোপচার করিয়ে দুটি চোখে পরিপূর্ণভাবে দেখতে পাবেন রঞ্জিত।

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. এসএম আব্দুল্লাহ আল মুরাদ বলেন, রঞ্জিতের দুই চোখে দ্রুত চিকিৎসা করানো দরকার। তা নাহলে চিরদিনের জন্য দৃষ্টিহীন হয়ে পড়তে পারেন তিনি।

রঞ্জিতের স্ত্রী শিখা রানী শাখারী বলেন, আমার বাবার বাড়ি থেকে যতটুকু জমি ও গহনা পেয়েছি, তা বিক্রি করে রঞ্জিতের চিকিৎসা করিয়েছি। এখন আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। এখন চিকিৎসার টাকা নেই। আমাদের একটি ঘরও নেই।

রঞ্জিতের শাশুড়ি রেনু বালা বলেন, টাকার অভাবে মেয়েজামাইয়ের চিকিৎসা করাতে পারছি না। এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে? জামাইয়ের চিকিৎসা করতে এক লাখ টাকার প্রয়োজন। এত টাকা জোগাড় করা আমার পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়।

রঞ্জিত দাস বলেন, চোখের চিকিৎসা করাতে করাতে টাকা, জমি সব হারিয়ে আমি এখন অসহায়। তাই চোখের চিকিৎসা ও সংসার চালাতে মাঝে মাঝে ভিক্ষা করি। আমি সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চাই।

মো. ছগির হোসেন/এসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]