জেলে বন্দি বাবা-ছেলেসহ একই পরিবারের চারজনের মনোনয়ন জমা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৪:২৭ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০২১

ফরিদপুরের নগরকান্দায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে কারাগারে থাকা বাবা-ছেলেসহ একই পরিবারের চারজন চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

শনিবার (১৬ অক্টোবর) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে উপজেলার রামনগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে একই পরিবারের চার জনসহ মনোনয়নপত্র জমা দেন পাঁচজন। তারা হলেন-কারাগারে বন্দি আবদুল কুদ্দুস ফকির, তার ছেলে জাকির ফকির এবং বাইরে থাকা স্ত্রী সেলিনা বেগম ও মেয়ে কুইন আক্তার। এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাইমুদ্দিন মণ্ডল মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবদুল কুদ্দুস ফকির ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান। এলাকায় একটি হত্যা মামলায় আসামি হয়ে তিনি ও তার ছেলে বর্তমানে কারাগারে বন্দি।

স্থানীয়রা বলছেন, কারাগারে বন্দি অথবা কোনো কারণে যদি বাবা কিংবা ছেলে অথবা উভয়েরই যদি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে পরিবারের চারজনের মধ্যে অন্তত একজন যেন প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে টিকে থাকেন, সেজন্য চারজনই মনোনয়ন দিয়েছেন।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে রামনগর ইউনিয়নের ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান (৪৬) খুন হন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

মামলাটির তদন্ত করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ২০২১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. এমদাদুল বর্তমান রামনগর ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস ফকির, তার ছেলে জাকির ফকিরসহ ১৫ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। গত ২৪ আগস্ট ওই মামলায় হাজিরা দিতে গেলে আবদুল কুদ্দুস ফকির ও তার ছেলে জাকির ফকিরসহ আটজনকে আদালতের নির্দেশে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল কুদ্দুসের মেয়ে কুইন আক্তারের ভাষ্য, আমরা একসঙ্গে বাবা, মা, ভাই, বোন মনোনয়নপত্র দাখিল করার কারণ তো অবশ্যই আছে। ২১ অক্টোবর মনোনয়নপত্রগুলো যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিন। তার আগে বিস্তারিত কিছু বলতে চাচ্ছি না। তবে ওইদিনই সবার কাছে অনেক কিছুই পরিষ্কার হবে। তবে আমাদের পরিবারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, নির্বাচনী মাঠে আমরা থাকবোই। মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পরে পরিবারের চারজনের মধ্যে যে কোনো একজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

আওয়ামী লীগের আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাইমুদ্দিন মণ্ডল বলেন, আমি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সময় থেকে আওয়ামী লীগ করি। উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের মৌন সমর্থন ও আশ্বাসে প্রার্থী হয়েছি। আমার মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন উপজেলা আওয়ামী লীগের অনেক নেতা আমার সঙ্গে ছিলেন। নির্বাচনে যদি কারচুপি না হয়, তাহলে আমার বিজয় নিশ্চিত।

নগরকান্দা উপজেলা মৎস্য ও সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা তানভির সিদ্দিকী জানান, আগামী ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে নগরকান্দা উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ অক্টোবর ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিন ২১ অক্টোবর।

এন কে বি নয়ন/এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]