তিস্তায় সব হারিয়ে কাঁদছেন জহুরা বেওয়া

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ১০:৪১ এএম, ২২ অক্টোবর ২০২১

‘হঠাৎ কইরা বানের পানি আইয়া আমাগো ঘরবাড়ি ভাইসা গেছে। লইয়া গেছে হাড়ি পাতিল কাপড়-চোপড় হাঁস, মুরগি ও ছাগল। এখন কই যামু। আমার কোনো পোলাপান নাই’ তিস্তা নদীর পাড়ে বসে এভাবে কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা জহুরা বেওয়া।

তিনি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দোয়ানী গ্রামের মৃত সোনা মিয়া স্ত্রী। ২০ বছর আগে তার স্বামী মারা যান। তারা ছিলেন নিঃসন্তান।

কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘বাবাগো আমারে কিছু দিলে কোনো মেম্বরের হাতে না দিয়ে আমার হাতে দিয়েন।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছ, ২০ অক্টোবর বেলা ১১টায় হঠাৎ তিস্তায় বেড়ে যাওয়া পানির তোড়ে ব্যারাজ রক্ষার ফ্লাট বাইপাস ভেঙে যায়। এরপর দ্রুত নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে থাকে। ঘরবাড়ি ছেড়ে ব্যরাজ এলাকার প্রায় ২০০ পরিবার আশ্রয় নেন স্থানীয় গাইডবান সড়কে। সেখানেই
পরিবারগুলো খেয়ে না খেয়ে নির্ঘুম রাত কাটান।

বৃদ্ধা জহুরা বেওয়ার নদীতে সব ভেসে যাওয়ায় তিনি নিরুপায় হয়ে পড়েছেন। তিনি সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন।

জহুরা বেওয়া বলেন, ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়ায় অন্যের বাড়িতে উঠে মানুষের দেওয়া খিচুড়ি চিড়া খেয়ে রয়েছি। এখন কই যামু কোনো উপায় নেই। কেউ ঘর কইরা দিলে সেখানে থাকমু।

এ বিষয়ে গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল মালেক বলেন, সরকারি কোন সহযোগিতা পেলে ওই বৃদ্ধাকে দেওয়া হবে।

রবিউল হাসান/এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]