মা-ভাইয়ের পর বাবাকেও হারালো আব্দুল্লাহ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৫:৪১ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০২১

টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে মা ও ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর পরে গুরুতর আহত বাবাকে হারালো শিশু আব্দুল্লাহ।

শনিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে বাসাইল উপজেলার ময়থা গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তিনজনের দাফন সম্পন্ন করেন স্বজনরা। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে সেখানকার পরিবেশ।

নিহতরা হলেন- বাসাইল উপজেলার ময়থা গ্রামের উত্তরপাড়া এলাকার আজগর আলী (৩০), তার স্ত্রী সানসিয়া সুলতানা সারা ও তাদের ছোট ছেলে আব্দুর রহমান আইয়ান (৫)। সম্প্রতি তারা সদর উপজেলার করটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন।

নিহত সারার ভাই জামিলুর রহমান জানান, আজগর একজন প্রবাসী। তিনি বাড়িতে আসার পর পরিবার নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে মামার বাড়ি দুই শিশুসহ স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে যান। সারাদিন ঘুরে সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফেরার পথে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হাতিলা অরক্ষিত লেভেলক্রসিং পার হওয়ার সময় হঠাৎ মোটরসাইকেল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় লেভেলক্রসিংয়ের আশপাশে বন জঙ্গলে ঢেকে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল দেখা যায়নি। এতে ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলে আজগর আলীর স্ত্রী সারা ও ছোট ছেলে আব্দুর রহমান আইয়ান (৫) নিহত হন।

তিনি আরও জানান, গুরুতর আহত হন আজগর (৩০) ও বড় ছেলে আব্দুল্লাহ (৯)। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ সময় শিশু আব্দুল্লাহকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক আজগরকে ঢাকার আগারগাঁও নিউরো সাইন্স হাসপাতালে রেফার করেন। ঢাকায় নেওয়ার পথে রাতেই তিনি মারা যান।

এ বিষয়ে নিহত আজগর আলীর উকিলবাবা আশরাফ আলী বলেন, ট্রেনে কাটা পড়ে একই পরিবারের চারজনের মধ্যে তিনজনই মারা গেছে। শুধু বেঁচে আছে শিশু আব্দুল্লাহ। শনিবার সকালে আব্দুল্লাহর বাবা, মা আর ছোট ভাইয়ের মরদেহ তাদের গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। শিশু আব্দুল্লাহ এখন তার দাদা-দাদির কাছে আছে।

আরিফ উর রহমান টগর/এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]