১৪ শিক্ষার্থীর কাছে চুল কাটার বিবরণ শুনলো ইউজিসি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৫:৩৮ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২১

মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা তদন্তে আসা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রতিনিধি দলের কাছে বিবরণ দিয়েছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী ১৪ শিক্ষার্থী।

বুধবার (২৭ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত একাডেমিক ভবনের চতুর্থ তলায় অবস্থিত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শ্রেণিকক্ষে চলে সাক্ষ্যগ্রহণ।

এতে ঘটনার প্রথম সাক্ষ্য দেন শিক্ষার্থী নাজমুল হোসেন। এরপর আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া প্রতিনিধি দলের চারজনের সাক্ষ্য নেয় ইউজিসির প্রতিনিধি দলটি।

বিকেলে বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থী আবু জাফর হোসাইন।

এদিকে ঘটনা তদন্তে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে আসে ইউজিসির প্রতিনিধি দল। এ সময় সেখানে ছিলেন অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনও। সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিনিধি দল তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর দীল আফরোজার নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধি দলের বাকি দুজন হলেন, ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের পরিচালক জামিলুর রহমান এবং ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের সহকারী পরিচালক আবু ইউসুফ হীরা। এদের মধ্যে দুজন এখানে আসলেও তদন্ত কমিটির প্রধান প্রফেসর দীল আফরোজা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. সোহরাব আলী জাগো নিউজকে বলেন, সকালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল ক্যাম্পাসে আসে। তারা বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ প্রতিনিধি দলের প্রধান ইউজিসি সদস্য প্রফেসর দীল আফরোজা না আসলেও ভার্চুয়ালি যুক্ত চিলেন। অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনও সেসময় ছিলেন।

২৬ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন। অপমান সহ্য করতে না পেরে সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে নাজমুল হাসান তুহিন নামের এক ছাত্র অতিমাত্রায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা সব পরীক্ষা বর্জন করে একাডেমিক এবং প্রশাসনিক ভবনে তাল ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ করেন। ওইদিন রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান, সহকারী প্রক্টর ও সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন। ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলতেই থাকে। এক পর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে আন্দোলন থেকে সরে আসেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি। শুক্রবার (২২ অক্টোবর) সিন্ডিকেট মিটিংয়ে ওই প্রতিবেদনের আলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সিদ্ধান্ত ছাড়াই সিন্ডিকেট সভা মূলতবি হওয়ায় রাতেই ফের আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। রোববার দিনভর মহাসড়ক অবরোধ, অনশন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। আন্দোলন চলা অবস্থায় দুজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যারও চেষ্টা করেন।

রোববার (২৪) অক্টোবর সন্ধ্যায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বোঝাতে এসে অবরুদ্ধ হন রেজিস্ট্রারসহ শিক্ষক কর্মকর্তারা। ৯ ঘণ্টা পর পুলিশি হস্তক্ষেপে মুক্ত হন শিক্ষক-কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) শিক্ষকদের আশ্বাসে বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করেন শিক্ষার্থীরা।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]