৩৪ দিন কারাভোগের পর মুক্তি পেলেন সেই নিরপরাধ শাজাহান

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ভোলা
প্রকাশিত: ০৮:৫৯ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২১

আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় ৩৪ দিন কারাভোগের পর হত্যা মামলা থেকে মুক্তি পেলেন মো. শাজাহান (৪৬)।

বুধবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে ভোলা কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। কারাগার থেকে বের হয়ে পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে তার গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দেওয়া হয়।

শাজাহান ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘার হাওলাদা গ্রামের মুন্সি বাড়ির মো. আজিজুল হকের ছেলে এবং স্থানীয় ইলিশা বাঘার হাওলা নেছারিয়া দাখিল মাদরাসার চতুর্থ শ্রেণির দপ্তরি পদে কর্মরত।

শাজাহান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি জানি কোনো অপরাধ করিনি। তাই আমার বিশ্বাস ছিল একদিন না একদিন প্রমাণিত হবে আমি নির্দোষ। আর সেটাই আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। আজ আমি মুক্তি পেয়েছি।’

নির্দোষ মো. শাজাহানের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আব্বাস উদ্দিন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, মো. রফিকুল ইসলাম হত্যা মামলার আসামির নাম, বাবার নাম ও গ্রামের ঠিকানা মিল থাকায় ২৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে নির্দোষ মো. শাজাহানকে গ্রেফতার করা হয়। ৬ অক্টোবর আদালতে শাজাহানকে নির্দোষ প্রমাণের কাগজপত্র দাখিল করে বিষয়টি তদন্তের জন্য আবেদন করি। আদালত ১৪ দিনের মধ্যে তদন্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ঢাকার সবুজবাগ থানাকে নির্দেশ দেয়। এরপর সবুজবাগ থানা ভোলা মডেল থানাকে তদন্তের জন্য বলে।

jagonews24

আব্বাস উদ্দিন বলেন, তদন্তে প্রমাণিত হয় ২৩ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হওয়া মো. শাজাহান হত্যা মামলার আসামি নন। তাই ২৪ অক্টোবর ঢাকা বিশেষ দায়রা জজ আদালত-১ এর ভারপ্রাপ্ত বিশেষ দায়রা জজ শেখ নাজমুল আলম ওই হত্যা মামলা থেকে তাকে মুক্তির আদেশ দেন। ওই মুক্তির আদেশ আজ ভোলায় এলে মো. শাজাহান কারাগার থেকে মুক্তি পান।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়ন বাঘার হাওলা গ্রাম ২নং ওয়ার্ড চৌকিদার বাড়ির স্থায়ী বাসিন্দা আবদুল আজিজের ছেলে মো. হানিফ ওরফে শাহাজাহান ঢাকার সবুজবাগ এলাকায় আপন বড় ভাই রফিকুল ইসলামের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়ান। এর জেরে ওই বছরের ২০ মার্চ বড় ভাইকে হত্যা করেন শাহাজাহান। এ ঘটনায় রফিকুলের স্ত্রী জোসনা ওরফে মানছুরা বাদী হয়ে সবুজবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

এ ঘটনায় পুলিশ তখন মামলার প্রধান আসামি মো. হানিফ ওরফে শাহাজাহানকে গ্রেফতার করে। আদালতের মাধ্যমে দীর্ঘ চার বছর কারাভোগ করেন তিনি। এরপর জামিন নিয়ে দুবার কোর্টে হাজির হন, তারপর থেকে পলাতক।

আসামি ভোলা জেলার বাসিন্দা হওয়ায় মামলাটি ভোলা সদর মডেল থানায় আসে। সেটির তদন্তের দায়িত্ব পড়ে ভোলা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কবির হোসেন উকিলের কাঁধে। এর মধ্যে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ওই হত্যা মামলায় মো. শাজাহানকে তার কর্মস্থল পূর্ব ইলিশা নেছারিয়া মাদরাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

জুয়েল সাহা বিকাশ/এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]