কুল ফুলে মধু চাষ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ১২:৩৯ পিএম, ০২ নভেম্বর ২০২১

সাধারণত সরিষা ফুল কিংবা লিচু ফুলের সময় খামারীরা মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করে থাকেন। ফলে বছরের অন্যান্য সময় অনেকটা অলস সময় কাটে তাদের। এ সময় মৌমাছি বাঁচিয়ে রাখতে প্রয়োজন হয় বাড়তি খাবারের, আসে না কোনো উৎপাদন। এতে লোকসানে পড়েন খামারীরা। এসব দিক বিবেচনা করে ঝিনাইদহের মহেশপুরে দ্বিতীয় বারের মতো শুরু হয়েছে কুল গাছের ফুল থেকে মধু সংগ্রহ।

মহেশপুর কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর প্রথমবারের মতো তিনজন খামারী ৫৫৫টি মৌ বাক্স থেকে তিন হাজার কেজি মধু সংগ্রহ করেছিলেন। এবছর ১০ জন খামারীর ৯৬০টি বাক্স থেকে পাঁচ হাজার কেজি মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

Bee-(4).jpg

ঝিনাইদহের ভারতীয় সীমান্ত এলাকা মহেশপুরের ভাটপাড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন কুলের আবাদের সমারোহ। আর এসব জমির পাশেই মৌ চাষের বাক্স বসিয়েছেন মৌচাষিরা। এতে মৌমাছির মাধ্যমে কুল ফুলের পরাগায়নে সহায়তা হচ্ছে। ফলে একদিকে কুলের উৎপাদন বাড়ছে, অপরদিকে মধু আহরণ করা যাচ্ছে। সমন্বিত এই চাষে কুলচাষি ও মৌচাষি উভয়ই লাভবান হচ্ছেন।

কুল গাছে ফুল আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজবাড়ী, মাদারীপুর, রংপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে মৌচাষিরা বাক্স (কলোনি- মৌমাছির বাক্স) নিয়ে হাজির হন। সাধারণত সকালে এবং বিকেলের দিকে মৌমাছিগুলো ছুটে বেড়ায় ফুলে ফুলে। সেখান থেকে মধু নিয়ে ফেরে কলোনীতে। এই মৌসুমে গড়ে ২৫ দিনে তিনবার মধু সংগ্রহ করা যায়। এতে খরচের তুলনায় লাভও হয় দ্বিগুন।

মাদারীপুর থেকে আশা মৌচাষি খলিলুর রহমান বলেন, কুল ফুল থেকে খুব ভালো মানের মধু সংগ্রহ করা যায়। তিনি ১৬৫টি মৌমাছি নিয়ে এসেছিলেন তার মধ্যে ২৫ শতাংশ মারা গেছে। বাকিগুলো অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

Bee-(4).jpg

তিনি বলেন, কৃষি কর্মকর্তারা যদি কৃষকদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করেন তাহলে কুল বাগানে বিষ প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকবেন কৃষক। মৌমাছি যদি বাগানে থাকে তাহলে বিষ প্রয়োগ না করলেও চলবে। এসব মৌমাছি যখন পরাগায়ন ঘটাবে তখন বিভিন্ন কীটপতঙ্গ নষ্ট হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অপর এক মৌচাষি মতিয়ার রহমান বলেন, তার ৪০টি কলোনির মধ্যে ৩০টি কলোনি থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়েছে। এরইমধ্যে ৪০ কেজি মধু পেয়েছেন। আর এই মধু বাজারজাত করছেন মণ প্রতি ২২শ টাকা করে।

তিনি আরও বলেন, এখানে আসা-যাওয়ার খরচ হবে ৮ হাজার টাকা। কয়েকদিনে ১২শ টাকার মধু সংগ্রহ করেছেন। তিনি আশা করছেন সামনে আরও মধু সংগ্রহ করতে পারবেন।

Bee-(4).jpg

ঝিনাইদহ মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান আলী জানান, এই মৌসুমে মধু উৎপাদন হয় না। ফলে খামারীদের লোকসান গুনতে হয়। তাই এই লোকসানকে পেছনে ফেলে কুল গাছের ফুল থেকে মধু সংগ্রহে চাষিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। মৌমাছি কুল ফুলে উড়ে উড়ে বসে মধু সংগ্রহ করে। এতে ফুলে সহজে পরাগায়ন ঘটে। তাই কুল খেতের পাশে মৌ চাষের বাক্স স্থাপন করলে কুলের ফলন বাড়ে। পাশাপাশি মৌচাষিরা মধু আহরণ করে লাভবান হন।

তিনি আরো বলেন, মৌচাষিদের মধু আহরণের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মধু সংরক্ষণের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সংরক্ষণ করতে পারলে মৌচাষিরা আরও বেশি লাভবান হতে পারবেন।

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।