৬০০ শিক্ষার্থীর পাঠদানে ৬ শিক্ষক, ধুঁকছে বিদ্যালয়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ১২:১৩ পিএম, ০৩ নভেম্বর ২০২১

ফরিদপুরের বোয়ালমারী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চলছে শিক্ষক-কর্মচারী সংকট। এতে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। শিক্ষকদের ১১টির মধ্যে ছয়টি পদই শূন্য। ফলে খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে কোনোরকমে পাঠদান চললেও বিষয়টি বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনার পরও মিলছে না সমাধান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে ধুঁকে ধুঁকে চলছে অর্ধশত বছরের পুরনো এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। এখানে সাড়ে ছয়শোর বেশি শিক্ষার্থীর বিপরীতে নিয়মিত শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ছয়জন। গণিত আর ইংরেজির মতো বিষয়গুলোতে শিক্ষক পদ শূন্য।

১৯৬৫ সালে উপজেলা ও পৌর সদরের দক্ষিণ শিবপুরে প্রায় দেড় একর জমির ওপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার প্রায় ২২ বছর পর ১৯৮৭ সালের ২২ ডিসেম্বর বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের ঘোষণা পায়।

৬০০ শিক্ষার্থীর পাঠদানে ৬ শিক্ষক, ধুঁকছে বিদ্যালয়

ওই সময় বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষকদের মোট পদ ছিল ১১টি। আর তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের পদ ছিল চারটি। বর্তমানে এখানে পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত আছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি ২০১৭ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে শূন্য আর সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য ২০১৯ সালে ১৭ জুলাই থেকে। এছাড়া গণিত, ইংরেজি, বাংলা ও ধর্ম বিষয়ের একজন করে সহকারী শিক্ষকের পদও ফাঁকা। এ পরিস্থিতিতে পাঠদান কার্যক্রম সচল রাখতে নেওয়া হয়েছে খণ্ডকালীন চারজন অতিথি শিক্ষক।

বিদ্যালয়টির তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের চারটি পদের মধ্যে বর্তমানে শুধুমাত্র একজন দারোয়ান কর্মরত রয়েছেন। তৃতীয় শ্রেণির অফিস সহকারী পদটি ২০১৫ সালের ১১ মে থেকে, চতুর্থ শ্রেণির নৈশপ্রহরী পদ ২০১৭ সালের ১০ জানুয়ারি এবং দপ্তরি পদটি ২০২১ সালের এক জানুয়ারি থেকে শূন্য রয়েছে।

এদিকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বিদ্যালয়ে তিনতলা বিশিষ্ট একটি একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ দিকে। এছাড়া একই চত্বরে আরও একটি ছয়তলা নতুন ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। যে ভবনটি উপজেলার জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হবে। বছরের বাকি সময় এ ভবনেও চলবে শ্রেণিপাঠদান। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ছাত্রী সংখ্যা ৬৫৫ জন।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী কেয়া, মারিয়া বিনতে মিরাজ ও লিমা জাগো নিউজকে জানায়, শিক্ষকের অভাবে তাদের উচ্চতর গণিতের ক্লাস কখনোই হয় না।

৬০০ শিক্ষার্থীর পাঠদানে ৬ শিক্ষক, ধুঁকছে বিদ্যালয়

একই ক্লাসের ইসরাত জেরিন, এশা আনোয়ার, ষষ্ঠ শ্রেণির সাগরিকা আক্তার ও রেবা ইসলামসহ একাধিক ছাত্রী জানায়, শিক্ষক সংকটে নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বাইরে প্রাইভেট পড়ে ঘাটতি পূরণ করতে হচ্ছে।

খণ্ডকালীন শিক্ষক মো. রইচ উদ্দিন জাগো নিউজকে জানান, সারা মাস পাঠদান শেষে বিদ্যালয় থেকে আমাদের মাত্র দুই হাজার টাকা সম্মানী দেওয়া হয়। এই ঊর্ধ্বমূল্যের বাজারে যা খুবই বেমানান এবং অমানবিকও বটে।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এটিএম চুন্নু মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান সমস্যা শিক্ষক-কর্মচারী সংকট। বিষয়টি সবশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর লিখিতভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ঢাকা অঞ্চলের উপ-পরিচালককে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর জন্য দুই হাজার ৬০০ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এ বছরের ডিসেম্বর নাগাদ ওই তালিকা থেকে আমাদের বিদ্যালয়ের শূন্য পদে শিক্ষক পাওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম বলেন, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা প্রক্রিয়াধীন। খুব শিগগিরই সব শূন্য পদ পূরণ হবে।

এন কে বি নয়ন/এমকেআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।