ফরিদপুরে ধানের ভালো দামে কৃষকের মুখে হাসি
সবুজ মাঠ এখন সোনালী রঙে ছড়াছড়ি। মাঠে মাঠে চলছে ধান কাটার ধুম। কৃষকের আঙিনায় গড়াগড়ি খাচ্ছে নতুন ধান। কেউ কাটছেন, কেউবা আঁটি বাঁধছেন আবার কেউ মাড়াই করছেন। যেন দম ফেলার ফুরসত নেই। সব মিলিয়ে কৃষকের ঘরে ঘরে চলছে নবান্ন উৎসব।
ফরিদপুর সদর, বোয়ালমারী, মধুখালী, সালথা, আলফাডাঙ্গা, সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। চলতি মৌসুমে আগাম জাতের ধান চাষে ফলন হয়েছে বাম্পার। বাজারে দাম ভালো থাকায় খুশি কৃষকরাও।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর আমন ধানের উৎপাদন হচ্ছে একর প্রতি (১০০ শতক) ৭০-৮০ মণের ওপর। খরচ হয়েছে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা। বাজারে দাম ভালো থাকলেই আমরা লাভবান হবো।
মধুখালী উপজেলার উজানদিয়া গ্রামের কৃষক মো. হাচান সেখ বলেন, দুই একর জমিতে হাইব্রিড ধানের চাষ করেছিলাম। এখন জমির সেই ধান কাটছি।

পূর্ব আড়পাড়া গ্রামের কৃষক মো. আকরাম বলেন, এবার ফলনের পাশাপাশি ধানের দামও ভালো। আর এতেই আমরা খুশি।
আলফাডাঙ্গার বাকাইলের বিভূতি মন্ডল, হেলেঞ্চা গ্রামের প্রভাষ মন্ডল, ফরিদপুর সদরের কৃষ্ণনগর-বাটিকামারির সজিব মোল্লা, সালথার নুরুল ইসলাম, বোয়ালমারী উপজেলার বাইখীর গ্রামের মানোয়ার খান, সুইট মন্ডলসহ একাধিক আমন চাষিরা জানান, চলতি রোপা আমন মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। এ বছর ধান খেতের রোগ-বালাই খুবই কম হয়েছে। কৃষকরা আগাম জাতের ধান কাটা-মাড়াই শুরু করেছেন। এসব জমিতে তারা আগাম পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসল রোপণ করবেন। এ মৌসুমে শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে ধানের ভালো ফলন হবে।

এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ৮ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ করা হয়েছে। ফলন হয়েছে ৮ হাজার ৪৪০ হেক্টর। যা ৪০ হেক্টর পরিমাণ বেশি। আমনের আগাম জাতগুলোর ধান আগে পেকে যায় বিধায় কৃষকরা এখন ঘরে তুলতে পারছেন। মধুখালী উপজেলার মতো অন্য উপজেলায় ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. হযরত আলী জাগো নিউজকে বলেন, এ বছর জেলার ৯টি উপজেলায় ৬৪ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চাষ করা হয়। আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। আগের বছরের তুলনায় ফলনের দিক দিয়ে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। হাট-বাজারে ধানের দামও ভালো। সব মিলিয়ে আমন আবাদে চাষিরা খুশি।
এন কে বি নয়ন/এসজে/জিকেএস