বোমাসদৃশ বস্তু পরীক্ষায় পাবনা যাচ্ছে ডিসপোজাল টিম
পাবনার বেড়ায় সাংবাদিক আখতারুজ্জামান আখতারের গ্রামের বাড়িতে পেতে রাখা বোমাসদৃশ বস্তু পরীক্ষা করতে ঢাকা থেকে বোমা ডিসপোজাল টিম আসছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (৫ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে তাদের ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এর আগে সকালে উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে দৈনিক যুগান্তর ও চ্যানেল আই’র পাবনা স্টাফ করেসপন্ডেট আখতারুজ্জামানের বাড়ির পাশে লাল স্কচটেপ মোড়ানো বোমাসদৃশ তিনটি বস্তু দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা।
বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ওই বাড়ির সঙ্গে সড়কের সংযোগস্থলের একটি জায়গায় সরলরেখা বরাবর তিনটি বোমাসদৃশ বস্তু রাখা আছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থল পাহারায় রেখেছে।
আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী বলেন, সকালে খবর পাওয়ার পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। একটি টিম এখনো পাহারায় রয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা থেকে বোমা ডিসপোজাল ইউনিটের একটি টিম শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে। ওই টিমের সদস্যরা বলতে পারবেন, এগুলো বোমা নাকি অন্যকিছু। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওই বাড়িতে বসবাসরত সাংবাদিক আখতারুজ্জামানের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা শামসুর রাহমান মিয়া (৭৫) জানান, তিনি সস্ত্রীক এ বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। তার চার ভাই চাকরির কারণে ঢাকা, পাবনা ও রাজশাহীতে থাকেন। বাড়ির কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই। অথচ তার বাড়িতে কে বা কারা বোমাসদৃশ বস্তু রেখে গেছে।
তিনি জানান, সকালে প্রতিবেশী আবুল কাশেম প্রথমে বস্তুগুলো দেখেন। তার ডাকেই তিনি গেট খুলে ঘরের পাশে তিনিটি বোমাসদৃশ বস্তু দেখতে পান। এতে তিনি আতঙ্কিত হয়ে বিষয়টি গ্রামের বাসিন্দা, ইউপি চেয়ারম্যান ও পুলিশকে জানান।
কে বা কারা কী উদ্দেশে সেগুলো রেখেছেন সে বিষয়ে কিছুই বুঝতে পারছেন না বলে জানান তিনি।
রঘুনাথপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, শামসুর রাহমান মিয়া একজন বৃদ্ধ মানুষ। তিনি খুবই নিরিবিলি জীবনযাপন করেন। তার সঙ্গে কারও ঝগড়া বিবাদও হয় না। তার ভাইয়েরা সাধারণত ঈদে বাড়ি আসেন। প্রতিবেশীরাও এমন ঘটনার কোনো কারণ অনুমান করতে পারছেন না। তবে বিষয়টি টের না পেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলেও ঘটতে পারতো।
আমিন ইসলাম জুয়েল/ইউএইচ/জিকেএস