কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল সরকারি পাঠ্যবই

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৮:৫০ পিএম, ১১ নভেম্বর ২০২১

যশোরের অভয়নগরে বিভিন্ন শ্রেণির সরকারি পাঠ্যবই কেজি দরে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর প্রতিরোধে বইগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার ধোপাদী গ্রামের ধোপাদী দপ্তরীপাড়া শহিদুল্লাহ দাখিল মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া বইগুলো উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে নেওয়া হয়েছে।

ওই মাদরাসায় গিয়ে দেখা যায়, মূল ভবনের সামনে প্রথম শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ বিজ্ঞান, ইসলাম ধর্ম, নৈতিক শিক্ষা, কৃষি শিক্ষাসহ আরও অন্যান্য বিষয়ের বই ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। পাশে একটি ওজন পরিমাপের ডিজিটাল মেশিনও আছে।

এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, সরকারি পাঠ্যবই বিক্রি করা হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। উদ্ধার করা বইগুলোর মধ্যে ২০১৯ ও ২০ সালের বিভিন্ন শ্রেণির নতুন বই আছে। আনুমানিক সাড়ে ১২ মণ ওজন হলেও বইগুলোর প্রকৃত সংখ্যা এ মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। উদ্ধার করা বই উপজেলা শিক্ষা অফিসে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

jagonews24

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বেলা আনুমানিক ২ টার দিকে নতুন বইগুলো ওজন মাপ শেষে একটি নছিমনে ভর্তি করা হচ্ছিল। এ সময় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ দপ্তরীর নেতৃত্বে এলাকাবাসী প্রতিরোধ করলে নছিমন চালক ও মাদরাসার সহকারী শিক্ষক ইউনুস আলী বইগুলো ফেলে পালিয়ে যান।

এ ব্যাপারে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ দপ্তরী বলেন, এই মাদরাসায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা সর্বমোট ৩০ জন। এখানে এত বই কীভাবে দেওয়া হলো। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

সরকারি বই বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে মাদরাসার সহকারী শিক্ষক ইউনুস আলী বলেন, মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল্লাহ, মাদরাসার সুপার, সহকারী সুপারসহ শিক্ষকমণ্ডলীর মিলিত সিদ্ধান্তে বইগুলো বিক্রি করা হচ্ছিল।

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি শহিদুল্লাহ বলেন, তিনি বই বিক্রির বিষয়ে কিছুই জানেন না। মেয়ের অসুস্থতার কারণে এলাকার বাইরে আছেন। যদি শিক্ষকরা জড়িত থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক পর্যায়ে তিনি বইগুলো পুরাতন ও ব্যবহৃত বলেও দাবি করেন।

মিলন রহমান/এসজে/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।