ফসলের মাঠে বন্য শূকরের হানা, রাত জেগে পাহারা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ০৬:৩০ পিএম, ২৬ নভেম্বর ২০২১

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ফসলের মাঠে বন্য শূকরের হানায় নষ্ট হচ্ছে ধান ও সবজিক্ষেত। এতে ভোগান্তি ও ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন ওই এলাকার কৃষকরা। বন্য শূকর থেকে ফসল বাঁচাতে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন তারা।

শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) উপজেলার লংগুরপার, দক্ষিণ বালিগাঁও, বাঘমারা, সরইবাড়ি, ভেড়াছড়া, ছাতকছড়া এলাকা ঘুরে জানা গেছে, ফসলি জমিতে লাউয়াছড়া বনের শুকরের দল প্রায় প্রতি রাতেই হানা দেয়। শীতের মধ্যে পাকা ধান রক্ষায় মাঠে বাঁশ দিয়ে মাচা তৈরি করে পাহারা দেন কৃষকরা। সঙ্গে রাখেন প্লাস্টিক ও টিনের তৈরি ড্রাম। কিছুক্ষণ পর পর চিৎকার এবং ড্রামে শব্দ করেন, যাতে শূকর চলে যায়।

কৃষকরা বলছেন, পাকা আমন ধান ও শীতকালীন সবজিক্ষেতে প্রায় প্রতি রাতেই শূকরের দল এসে ফসল নষ্ট করে। ধান, আলু, মূলাসহ বিভিন্ন ফসল উপড়ে ফেলে। সারাদিন কাজ করে আবার রাত জেগে ফসল পাহারা দিতে হয় কৃষকদের।

জাহির মিয়া নামে এক কৃষক জাগো নিউজকে বলেন, শূকর সব ফসল নষ্ট করে ফেলছে। এ অবস্থায় প্লাস্টিক ও টিনের ড্রামে শব্দ করে রাত জেগে ফসল পাহারা দিতে হচ্ছে। এসব শূকর মানুষকেও আক্রমণ করে। এ কারণে চার ফুট উচুতে বাঁশের মাচা তৈরি করেছি।

এভাবে মাচা তৈরি করে রাতভর পাহারা দিচ্ছেন কৃষক মুরাজ মিয়া, আবুল হোসেন, কৈইনুর ও দুলাল মিয়া। ফসল কাটার আগ পর্যন্ত চলবে তাদের পাহারা দেওয়ার কাজ। তবে বন্য শূকরের হানা ঠেকাতে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে তাদের অভিযোগ।

পরিবেশবাদী সংগঠন জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটি, কমলগঞ্জ-এর সাধারণ সম্পাদক মো. আহাদ মিয়া বলেন, বন উজাড় ও বনভূমি বেদখল হওয়ার কারণে এখন বন্যপ্রাণীরা লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। এর আগে বন্যপ্রাণীরা লোকালয়ে হানা দেয়নি, মানুষের কোনো ক্ষতি করেনি।

লাউয়াছড়ার বেদখল বনভূমি উদ্ধার করে বন্যপ্রাণীদের জন্য বনজ গাছ লাগানোর দাবি জানান তিনি।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের শ্রীমঙ্গল বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বন্যপ্রাণীর নির্দিষ্ট কোনো এলাকা নেই। বন্যপ্রাণীরা খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। বিশেষ করে বন্য শূকর ধান খেতে পছন্দ করে, মূলত পাকা ধান খাওয়ার জন্য ফসলের মাঠে হানা দিচ্ছে শূকরের দল।

তিনি আরও বলেন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বন্য শূকরের বংশবিস্তার আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। শূকরের দলের বনের পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে বিচরণ করা স্বাভাবিক বিষয় হলেও ফসল নষ্ট হওয়ার ঘটনা দুঃখজনক।

আব্দুল আজিজ/ইউএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]