পরিত্যক্ত জমিতে জেলা প্রশাসকের ৪০ রকমের সবজি চাষ

জাহিদ পাটোয়ারী
জাহিদ পাটোয়ারী জাহিদ পাটোয়ারী , কুমিল্লা কুমিল্লা
প্রকাশিত: ০৩:৫৯ পিএম, ২৭ নভেম্বর ২০২১

জেলা প্রশাসক বাসভবন লাগোয়া বোটানিক্যাল গার্ডেনের পরিত্যক্ত জায়গায় এখন সবুজ ফসলের সমারোহ। এখানে শীতকালীন সবজি ও বারোমাসি ফসলসহ প্রায় ৭০ রকমের ফুল ও ফলের আবাদ হচ্ছে। কৃষিবান্ধব কুমিল্লা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান নিজ হাতেই এ সবুজ গড়ে তুলেছেন।

jagonews24

কৃষকের ভূমিকায় তিনি প্রতিদিন সকালে এক ঘণ্টা পরিচর্যা করেন বাগান। বিশেষ করে ছুটির দিনে তার অধিকাংশ সময় কাটে ফসলের মাঠে। স্কুল শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং নগরবাসীকে উদ্বুদ্ধ করতে তিনি এ উদ্যোগ নিয়েছেন।

jagonews24

শনিবার (২৭ নভেম্বর) সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বোটানিক্যাল গার্ডেনের মূল প্রবেশধারের দুই পাশে নয়নাভিরাম সবুজ ফসল। খণ্ড খণ্ড ভাগে লাগানো হয়েছে হরেক রকমের সবজি। বাংলা, ইংরেজি ও বৈজ্ঞানিক নাম লিখে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে সাইনবোর্ড।

jagonews24

ডিসি কামরুল হাসান ও তার সহধর্মিণী সে ফসলের পরিচর্যা করছেন। তুলছেন শীতকালীন সবজি ফুলকপি। তাদের সহযোগিতা করছেন মালিরা। ডিসির বাসভবনের পুকুর পাড়েও চাষ করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সবজি। বর্তমানে তার বাগানে ৪০ ধরনেরও বেশি সবজি এবং ফুল, ফলদ ও ঔষধি মিলিয়ে অন্তত ৩০ প্রকার গাছ লাগানো হয়েছে।

jagonews24

সবজি হিসেবে চাষ হচ্ছে- ফুলকপি, বাঁধাকপি, পালংশাক, লালশাক, মুলাশাক, ডাঁটাশাক, লাউশাক, পুঁইশাক, লেটুসপাতা, পটোল, সজনে, কাঁচকলা, পেঁপে, মিষ্টিকুমড়া, শরসে, গাজর, ধনেপাতা, বিলাতি ধনেপাতা, কাঁকরোল, শালগম, বেগুন, ঝিঙে, বরবটি, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, লেবু, শসা, ধুন্দুল, করলা, শিম, কলমি, সরিষা, ব্রকলি, ক্যাপসিকাম, টমেটো ও মরিচ।

jagonews24

ফুল-ফল ও ঔষধির মধ্যে আছে গন্ধরাজ, টগর, জবা, বেলি, কসমস, অর্কিড, গাঁদা, সূর্যমুখী, বেলি, জুঁই, বকুল, রঙ্গন, কামিনী, মালতি, চিরতা, তোকমা, তুলসী, লটকন, আমড়া, কলা, মালটা, ড্রাগন ফল, ডালিম ও সফেদা ইত্যাদি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও সরকারি বাসবভন আঙ্গিনায় সম্প্রতি কৃষি কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। নিজস্ব অর্থায়নে নিজেই বীজতলা তৈরি করে চারা উৎপাদন করেছি। এসব ফসল উৎপাদনে সার-বীজ ও শ্রমিক মিলিয়ে প্রায় লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে। এছাড়া জেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকেও আমাকে পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হচ্ছে। জৈবসার ব্যবহার করে প্রাকৃতিক উপায়ে এ চাষাবাদ করা হচ্ছে। স্কুল শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং নগরবাসীদের উদ্বুদ্ধ করতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করি।

jagonews24

তিনি আরও বলেন, এছাড়া আমি এবং আমার পরিবার কৃষিবান্ধব। সে আগ্রহ থেকেই কৃষিকাজে নিজেই শ্রম দিয়ে যাচ্ছি। এরই মধ্যে কুমিল্লা জিলা স্কুল ও কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিন শতাধিক ফুলের চারা বিতরণ করা হয়েছে। বীজতলায় এখনো ১০ হাজারের অধিক বিভিন্ন ফুলের চারা আছে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এছাড়া আগামী সপ্তাহে কুমিল্লা নগরীর স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পরিদর্শনের জন্য অবমুক্ত করা হবে বাগান।

jagonews24

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, জেলা প্রশাসক একজন কৃষিপ্রেমী মানুষ। তিনি নেশা থেকেই কৃষিকাজ করছেন পরিত্যক্ত জমিতে। আমাদের পরামর্শে কোনো ধরনের কীটনাশক ব্যবহার না করে শুধু জৈবসার ব্যবহার করছেন তিনি। আমরা তাকে সহযোগিতা করেছি। মাটি উর্বরের কারণে ফলনও ভালো হচ্ছে। এসব সবজি তার পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে অফিসের লোকজনসহ মানুষের মধ্যে উপহার হিসেবে বিতরণ করছেন। বিশেষ করে নগরবাসী ও ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্বুদ্ধকরণের জন্যই জেলা প্রশাসকের এ প্রচেষ্টা।

জাহিদ পাটোয়ারী/এসজে/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]