স্লোগানকে কেন্দ্র করে যুবলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ছুরিকাহত ১০

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৫:৫৯ পিএম, ০১ ডিসেম্বর ২০২১

যশোর জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন ছুরিকাহত হয়েছেন। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের রক্তক্ষরণ বন্ধ হচ্ছে না।

বুধবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে শহরের ঝালাইপট্টি, পোস্টঅফিসপাড়া ও টাউন হল ময়দানে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

আহতরা হলেন-যশোর সদর উপজেলার বিরামপুর এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে খাইরুল ইসলাম (২০), চুড়ামণকাটি গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে আকিবুল ইসলাম (১৭), শহরের মুড়লি এলাকার সুফিয়ানের ছেলে রাব্বি (১৮), রূপদিয়া এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে শামীম হোসেন (২২), ঝুমঝুমপুর এলাকার মুরাদ হোসেনের ছেলে রাসেল (১৭), চাঁচড়ার জাকির হোসেনের ছেলে জয় আহম্মেদ (১৭), ধর্মতলা এলাকার বাদল গোপালের ছেলে গোষ্ঠ গোপাল (২০), স্বপন সরদারের ছেলে সোহাগ সরদার (২১), আরএন রোড এলাকার শফি ড্রাইভারের ছেলে হ্যাপি (১৭), হামিদপুর এলাকার রেজাউল ইসলামের ছেলে টিটো (১৮)।

আহতদের মধ্যে রাসেল হোসেন, হ্যাপি, খায়রুল, টিটু ও আকিবুলকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন পর বুধবার যশোর জেলা যুবলীগের বর্ধিতসভা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে যশোর শহরের সিটিটিএস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় যশোর জেলা ও আট উপজেলার নেতারা অংশ নেন। সভায় অংশ নিতে জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় চত্বরে জড়ো হন যুবলীগের পদপ্রত্যাশী সাবেক দুই ছাত্রলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম জুয়েল ও আনোয়ার হোসেন বিপুলের কর্মী-সমর্থকরা। এক পর্যায়ে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষে সংঘর্ষ বাধে। এসময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন ছুরিকাহত হন।

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত রাসেল বলেন, বর্ধিত সভায় যোগ দিতে মিছিল নিয়ে শহরের চিত্রার মোড়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে আসছিলাম। এক পর্যায়ে হ্যাপি তার লোকজন নিয়ে আমাকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে স্থানীয়রা আমাকে হাসপাতালে আসে।

জানতে চাইলে আহত হ্যাপি বলেন, রাসেলকে কে ছুরি মেরেছে তা আমার জানা নাই। বরং যুবলীগের মিছিল শেষে রাসেল লোকজন নিয়ে আমাকে ছুরি মেরে আহত করেছেন। স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এম আব্দর রশিদ বলেন, হ্যাপি, খায়রুল ও আকিবুলের শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। রক্ত বন্ধ করা যাচ্ছে না। তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এ বিষয়ে পুলিশের মুখপাত্র রুপন কুমার সরকার বলেন, ছিনতাইকারী হ্যাপি ব্যক্তিগত পূর্ব আক্রোশে শামীমকে ছুরিকাঘাত করে। এরই জেরে শামীমের লোকজন টিটু, হ্যাপি, খাইরুলদের ছুরিকাঘাত করে জখম করে। এ ঘটনায় যুবলীগের বর্ধিত সভার কোনো সম্পর্ক নেই। তারা কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মিলন রহমান/এসআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]