৫০ বছরেও রাষ্ট্রীয় সুবিধাবঞ্চিত বটিয়াঘাটার নির্যাতিতরা
‘স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তীতেও খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবার, বীরাঙ্গনাসহ নির্যাতনের শিকার নারীদের অধিকাংশই রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আমলাতান্ত্রিক জটিলতাই এর জন্য দায়ী।’
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মো. রিয়াদ হোসেনের গবেষণায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে। তিনি বটিয়াঘাটা উপজেলার আমিরপুর ইউনিয়নের খারাবাদ বাইনতলা গ্রামের আহমদ ফরাজীর ছেলে।
মো. রিয়াদ হোসেন বলেন, খুলনার ডুমুরুয়ার চুকনগর গণহত্যায় বটিয়াঘাটা উপজেলার ১১০ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা করা হয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বটিয়াঘাটার বাদামতলী, ডুমুরুয়ার চুকনগর ও সাতক্ষীরার ঝাউডাঙায় হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধসহ ব্যাপক নির্যাতন চালায় পাক হানাদার বাহিনী। এর অধিকাংশ শহীদ বটিয়াঘাটা উপজেলার।
একাডেমিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নানা বিষয়ে গবেষণা করছেন মো. রিয়াদ হোসেন। তার গবেষণার বিষয় ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ, প্রসঙ্গ: বটিয়াঘাটা উপজেলা’।
তিনি বলেন, এ উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধের সময় অন্তত ১২টি ঘটনায় দু’শোর বেশি নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়। তখনকার সময়ের ৬০টি গ্রামের প্রায় সবকটিতেই হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে পাকহানাদার ও তাদের দোসররা।
মো. রিয়াদ হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালের ১৯ মে বটিয়াঘাটার বাদামতলী নামক স্থানে গণহত্যা চালায় পাকবাহিনী। সেখানকার ভীতসন্ত্রস্ত মানুষজন পার্শ্ববর্তী চুকনগরে অবস্থান নিলে পরদিন ২০ মে সেখানেও গণহত্যা চালায় তারা। এরপর আতঙ্কিত লোকজন ভারতে পালানোর সময় সাতক্ষীরা সীমান্তে ঝাউডাঙা এলাকায় ২১ মে গণহত্যা চালায় হানাদাররা। এ তিনদিনের সংঘবদ্ধ গণহত্যায় অন্তত ১১০ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বটিয়াঘাটায় ৬৬টি গ্রাম থাকলেও মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিল ৬০টি গ্রাম। এসব গ্রামের প্রায় প্রতিটিতেই নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা, অগ্নিসংযোগের করুণ ইতিহাস রয়েছে। গবেষণায় তা একে একে উঠে আসছে। এতে প্রবীণ ব্যক্তি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন বইয়ের সহযোগিতা নিচ্ছেন বলেও জানান তরুণ গবেষক মো. রিয়াদ হোসেন।
এদিকে মুক্তিযুদ্ধের সময় জলসা হাইস্কুলে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে আক্রমণ, বারোআড়িয়া বাজারে মুক্তিযোদ্ধা এবং রাজাকারদের সম্মুখ লড়াইসহ ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন মোংলা বন্দর থেকে খুলনা আসার পথে পাকবাহিনীর বিমান হামলায় বটিয়াঘাটা উপজেলার মাথাভাঙ্গা গ্রামের কাছে কাজিবাছা নদীতে শহীদ হওয়ার বিষয়টিও তুলে আনা হবে গবেষণায়।
ইকবাল হোসেন মজনু/এফএ/জেআইএম