মির্জাপুরে এমপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলে আ’লীগে হতাশা
টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান খান আহমেদ শুভ। তিনি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই দলীয় নেতাকর্মীরা উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। মনোনয়ন পাওয়ার অল্প দিনেই তিনি সবার প্রিয় মানুষ হয়ে ওঠেন।
সোমবার প্রার্থিতা যাচাই-বাছাইয়ে ঋণ খেলাপির জামিনদার হওয়ায় খান আহমেদ শুভর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে নৌকার কর্মী-সমর্থকদের প্রচারণা হঠাৎ থমকে যায়। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মনোবল কিছুটা ভেঙে পড়লেও থেমে নেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের প্রচারণা। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খান আহমেদ শুভ প্রার্থিতা আবারো ফিরে পাবেন বলে আশা করছেন তার কর্মী-সমর্থকরা।
খোঁজ জানা গেছে, মির্জাপুর আসনে টানা চারবারের সংসদ সদস্য মো. একাব্বর হোসেন ১৬ নভেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। ৩০ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের সংবাদ সম্মেলনে এ আসনের উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ১৫ ডিসেম্বর। ২০ ডিসেম্বর ছিল যাচাই-বাছাই। ২৭ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। নির্বাচন হবে ১৬ জানুয়ারি।
টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, ঢাকায় ইস্টার্ন ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখায় খতিব খান নামক এক ব্যক্তির ছয় লাখ টাকার একটি ঋণের জিম্মাদার ছিলেন খান আহমেদ শুভ। এ ঋণে খেলাপি বলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক নেতা জানান, খান আহমেদ শুভ মনোনয়ন পাওয়ার অল্প দিনেই সবার প্রিয় মানুষ হয়ে ওঠেন। তার মনোনয়নপত্র বাতিলের খবরটি সারা মির্জাপুরে স্থবিরতা সৃষ্টি করেছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আমেজেও স্থবির হয়ে আছে।
মির্জাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, আইনি পক্রিয়ার মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে খান আহমেদ শুভ আবার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিবেন বলে আশা করি।
মির্জাপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুর রহমান আকন্দ জাগো নিউজকে বলেন, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সমর্থকরা উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নৌকার প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। সোমবার শুভর মনোনয়নপত্র বাতিলের খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে স্থবিরতার দেখা দেয়।
সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন মির্জাপুর উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শক্তিপদ ঘোষ জাগো নিউজকে বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে সবসময় সমর্থন করে থাকি। আওয়ামী লীগ খান আহমেদ শুভকে নৌকা প্রতীক দিয়েছে। শুভ একজন ভালো মানুষ। আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি তার প্রার্থিতা ফিরে পাবেন বলে আশা করছি।
মির্জাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মিয়াজ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, খান আহমেদ শুভর মনোনয়নপত্র বাতিলের খবরটি ভালো লাগেনি। প্রার্থিতা বাতিলের খবরটি মির্জাপুরের নির্বাচনী আমেজে স্থবিরতা তৈরি করেছে। তিনি যেন তার প্রার্থিতা ফিরে পান এ দোয়া করি।
মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদ বলেন, খান আহমেদ শুভর মনোনয়নপত্র বাতিলের খবরে উপজেলার সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা হতাশ হয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি তার প্রার্থিতা ফিরে পাবেন।
টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, খান আহমেদ শুভ ঋণ পরিশোধ করেছেন। তিনি ঋণ খেলাপি নন, আমরা সার্টিফাই কপিতে লিখে দিয়েছি। নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে তিনি তার প্রার্থিতা ফিরে পাবেন বলে আশা করছি।
এস এম এরশাদ/এসজে/এএসএম