বর্জ্য সংগ্রহে এনজিওর অনুপ্রবেশ, হরিজনদের যশোর পৌরসভা ঘেরাও

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৮:২৯ পিএম, ২৯ ডিসেম্বর ২০২১
দাবি আদায়ে যশোর পৌরসভা ঘেরাও করেন হরিজনরা

যশোরে দাবি আদায়ে পৌরসভা ঘেরাও করেছেন হরিজনরা। বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহে তাদের বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে পৌরসভা ঘেরাও করেন তারা।

কর্মসূচি থেকে পরিচ্ছন্নতা কাজে অহরিজনদের নিয়োগ বাতিল করে ছাঁটাই করা শ্রমিকদের পুনঃবহাল এবং কোনো শ্রমিক মারা গেলে তার পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার দাবি জানান তারা।

কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মতিলাল হরিজন। ঘেরাও কর্মসূচি পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিরণ লাল সরকার। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ যশোর জেলা শাখার সভাপতি আশুতোষ বিশ্বাস।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি মন্টু বিশ্বাস, সহ-সভাপতি কমল বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক হিরণ লাল সরকার, সাধন বিশ্বাস, দেবলিয়া হরিজন প্রমুখ।

সভায় অবিলম্বে পরিচ্ছন্নতা কাজে এনজিওদের অনুপ্রবেশ বন্ধসহ দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মজুরি বৃদ্ধি, ছাঁটাই করা শ্রমিকদের পুনঃবহাল, মৃত শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা এবং শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুতে ১০ হাজার টাকা প্রদানের সম্পাদিত চুক্তিসহ শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবি জানান বক্তারা।

যশোর পৌরসভা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মতিলাল হরিজন জানান, হরিজনরা বাড়ি বাড়ি থেকে কিছু বকশিশের বিনিময়ে বর্জ্য সংগ্রহ করেন। কিন্তু এডিবি প্রকল্পের অজুহাত দেখিয়ে গত বছর বাড়ি বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহে এনজিওকে দায়িত্ব দেয় পৌরসভা। এ খবর পেয়ে হরিজনরা ময়লা অপসারণ বন্ধ করে দেন। তারা বিক্ষোভ সমাবেশও করেছেন। একপর্যায়ে পৌরসভার নতুন মেয়র হায়দার গণি খান পলাশের সঙ্গে আন্দোলনকারীরা দেখা করলে তিনি তিন মাসের সময় নেন।

তিনি আরও বলেন, শোনা যাচ্ছে আগের এনজিওর সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে পৌর কাউন্সিলরদের তত্ত্বাবধানে নতুন করে অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে পেশা সংকটে পড়তে যাচ্ছেন হরিজনরা। আগে কোনো শ্রমিক মারা গেলে তার পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হতো। সেটা কমিয়ে ২০ হাজার করে দেওয়া হচ্ছে। এজন্য তারা দাবি আদায়ে ফের রাজপথে নেমেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোকসিমুল বারী অপু জাগো নিউজকে বলেন, যশোর পৌরসভার আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটের জন্য প্রতিদিন অন্তত ২৫ টন ময়লা প্রয়োজন। কিন্তু হরিজনদের সংগৃহীত বর্জ্য ১০ টনের বেশি নয়। তারা কাজে অবহেলা করেন। মাস শেষে টাকা পেলে কয়েকদিন তাদের দেখা মেলে না। নাগরিকরা তাদের কাছে জিম্মি। এজন্য কাউন্সিলরা তাদের তত্ত্বাবধানে এনজিওদের মাধ্যমে বর্জ্য অপসারণের চিন্তা করছে।

মিলন রহমান/এসআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।