আবারও হাসপাতালেই ঠাঁই হলো হতভাগা শিশুটির
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে যাওয়া সেই শিশুটিকে এবার স্টেশনে ফেলে দিয়ে গেছে ‘স্বজনরা’। বুধবার (১২ জানুয়ারি) রাতে শিশুটিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (১০ জানুয়ারি) শিশুটিকে তার মা পরিচয় দেওয়া এক নারীর হাতে তুলে দেয় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি জেলার আশুগঞ্জের বৈকন্ঠপুর এলাকায় চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলে শিশুটি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে যাওয়ার পর আশুগঞ্জ থানা পুলিশ রেললাইনের পাশ থেকে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এর প্রায় ২৫ দিন পর শিশুটির জ্ঞান ফেরে কিন্তু সে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলে এবং মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যায়। জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে শিশুটির চিকিৎসা চলছিল। সেখানে হাসপাতালের পরিছন্নতাকর্মী উজ্জ্বল খান শিশুটিকে সেবাযত্ন করে লালন পালন করছিলেন।
এক বছরেও শিশুটির পরিবারের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। এনিয়ে জাগো নিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে সোমবার সকালে শিশুটির মা ও তার নানি হাসপাতালে তাকে শনাক্ত করেন। পরিচয় হিসেবে জন্ম নিবন্ধন ও মায়ের সঙ্গে একটি ছবি দেখায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাইয়ের করে দুপুরে শিশুটিকে তার মায়ের হাতে তুলে দেয়। কিন্তু বুধবার রাতে হুইল চেয়ারে থাকা অসুস্থ শিশুটিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে পান এক ফেরিওয়ালা। তিনি শিশুটিকে উদ্ধার করে রাত ১০টার দিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে সার্জারি ওয়ার্ডে শিশুটিকে ভর্তি করা হয়।
শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা ফেরিওয়ালা আব্দুর রহিম জানান, গতকাল মঙ্গলবার সকালে শিশুটিকে নিয়ে এক নারী রেলস্টেশনে ভিক্ষা করছিলেন। পরে ওই নারীকে আর দেখা যায়নি। শিশুটি হুইলচেয়ার থেকে পড়ে যায়। তা দেখে আমি শিশুটিকে উদ্ধার করি।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তত্ত্বাবধায়ক ডা. ওয়াহীদুজ্জামান জানান, শিশুটিকে হাসপাতালে রাখার আর সুযোগ নেই। আমরা যাচাই-বাছাই করে শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে তুলে দিয়েছিলাম। আমরা বসে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো। বিষয়টি থানায় অবগত করবো।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম বলেন, শিশুটিকে ফেলে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছি। আসলেই ওই নারী শিশুটির মা কিনা তা যাচাই করা হবে। আমরা গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি দেখছি।
আবুল হাসনাত/এফএ/জেআইএম