ঠাকুরগাঁও আদালতে বিচারক সংকট, বাড়ছে মামলার জট

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: ০৬:২৬ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২২
আদালতের বারান্দায় বিচারপ্রার্থীরা। ছবি-জাগো নিউজ

ঠাকুরগাঁও আদালতে বিচারক সংকটে মামলার জট বাড়ছে। পর্যাপ্ত সংখ্যক বিচারক না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক বিচার কার্যক্রম। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বিচারপ্রার্থীরা।

জেলার পাঁচ উপজেলার ছয়টি থানার মামলা ছাড়াও আদালতে করা মামলার বিচারকার্য পরিচালিত হয় দেওয়ানি ও ফৌজদারি ১৮টি আদালতে। ১৮ আদালতে ১৮ জন বিচারক থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন ১২ জন। দীর্ঘদিন ধরে বিচারক শূন্যতায় দেওয়ানি, ফৌজদারি, আমলি, নারী ও শিশু এবং মানবপাচারসহ বিভিন্ন মামলার জট তৈরি হয়েছে।

বিচারের আশায় বছরের পর বছর আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন সদরের আচকা গ্রামের নাছিমা খানম। কিন্তু বিচারক সংকটে তার করা নারী নির্যাতন মামলা নিষ্পত্তি হয়নি আজও। মামলা চালাতে গিয়ে তিনি এখন নিঃস্বপ্রায়।

Mamla-(2).jpg

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু নাছিমা নন, এভাবে বছরের পর বছর ধরে বিচারের আশায় দিন গুনছেন জেলার কয়েক লাখ মানুষ। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও আদালতে ১৭ হাজারের বেশি মামলার জট লেগে আছে। বিচারক সংকটে এসব মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে না। ফলে, একদিকে যেমন মামলাজট লেগে আছে, অন্যদিকে বিচারক সংকটে বিচার না পেয়ে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

ঠাকুরগাঁও হরিপুর উপজেলার মাধবপুর গ্রামের মনসুর আলী বলেন, ‘আমি আট বছর ধরে আদালতের বারান্দায় বারান্দায় ঘুরছি। এখনো কোনো দিক পাচ্ছি না। কবে নাগাদ মামলা নিষ্পত্তি হবে জানি না। মৃত্যুর আগে বিচার দেখে যেতে পারবো তো?’

Mamla-(2).jpg

বিচারক সংকটের কারণে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে বলে জানান আইনজীবী আশিকুর রহমান রিজভী। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘এতে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। বিচারক নিয়োগ ছাড়া এর কোনো সমাধান আছে বলে মনে করি না।’

মামলা নিষ্পত্তিতে বিচারক সংকট বড় সমস্যা বলে মনে করেন ঠাকুরগাঁও আদালতের সরকারি কৌঁসুলি মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, বিচার কার্যক্রমের গতি বাড়াতে যতটা দ্রুত সম্ভব আদালতে সাক্ষীদের উপস্থাপন করছি। আশা করি বিচারকের শূন্য পদ পূরণ হলে মামলার জট কমবে।

Mamla-(2).jpg

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, ১২ জনকে দিয়ে ১৮ জনের কাজ করতে হয়। এতে দিনকে দিন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

তানভীর হাসান তানু/এসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]