দুপুরে ডাল-ভাত-সবজি খেয়েছেন প্রদীপ-লিয়াকতরা

তৌহিদুজ্জামান তন্ময়
তৌহিদুজ্জামান তন্ময় তৌহিদুজ্জামান তন্ময় , নিজস্ব প্রতিবেদক কক্সবাজার থেকে
প্রকাশিত: ০৪:০২ পিএম, ৩১ জানুয়ারি ২০২২
ফাইল ছবি

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার রায় পড়া শুরু করেছেন বিচারক। এর আগে পুলিশের বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমারসহ আসামিদের আদালতে আনা হয়। সোমবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় প্রিজনভ্যানে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে নামানো হয় তাদের।

আদালতে আসার আগে কক্সবাজার জেলা কারাগারে ছিলেন আসামিরা। সেখানে অন্য আসামিদের মতো দুপুরের খাবার হিসেবে ভাত, ডাল ও সবজি খেয়েছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কক্সবাজার কারাগারের ডেপুটি জেলার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, দুপুরে কারাগারে থাকা অন্য আসামিদের মতো মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার আসামিরাও ডাল ও সবজি দিয়ে ভাত খেয়েছেন।

তাদের জন্য দুপুরে বিশেষ কোনো খাবারের ব্যবস্থা ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাধারণ কারারক্ষীদের মতো তাদের খাবারও এক ছিল। কোনো বিশেষ খাবার দেওয়ার নিয়ম নেই। সকালে নাস্তা হিসেবে খিচুড়ি খান। রাতে ভাতের সঙ্গে বরাদ্দ রয়েছে মাছ ও ডাল।

এ মামলার আসামিরা হলেন- টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বরখাস্ত পরিদর্শক লিয়াকত আলী, প্রদীপের দেহরক্ষী রুবেল শর্মা, বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের বরখাস্ত উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিত, বরখাস্ত কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, বরখাস্ত কনস্টেবল সাগর দেব, এপিবিএনের বরখাস্ত উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহজাহান, বরখাস্ত কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ, টেকনাফ থানায় পুলিশের দায়ের করা মামলার সাক্ষী বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিনড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর সিনহা।

হত্যাকাণ্ডের চারদিন পর ৫ আগস্ট সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে হত্যা মামলা করেন। মামলায় টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশসহ নয়জনকে আসামি করা হয়।

এ মামলায় চার মাসের বেশি সময় তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ৮৩ জন সাক্ষীসহ অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ১৫ জনকে আসামি করে দায়ের করা অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যাকাণ্ডকে একটি পরিকল্পিত ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দীর্ঘশুনানি, সাক্ষীদের জবানবন্দি, জেরা ও আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে গত ১২ জানুয়ারি রায়ের জন্য ৩১ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছিলেন বিচারক।

টিটি/এমএইচআর/এমএস

টাইমলাইন  

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।