টেকনাফে নারী উন্নয়ন কর্মীদের ওপর হামলা, শাস্তি দাবি ৬০ এনজিওর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৫৫ পিএম, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২

কক্সবাজারের টেকনাফে সম্প্রতি কোস্ট নামের একটি এনজিওর দুই নারী উন্নয়নকর্মীসহ ছয়জনের ওপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে জেলায় কর্মরত প্রায় ৬০টি স্থানীয় ও জাতীয় এনজিওর নেটওয়ার্ক কক্সবাজার সিএসও এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ)।

শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সাতদিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে সিসিএনএফ। অন্যথায় টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নে সিসিএনএফের সদস্য এনজিও কোনো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে অন্যান্য সব স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক এনজিওসমূহকে এ সিদ্ধান্তের প্রতি সংহতি জানানোর আহ্বান জানিয়েছে সিসিএনএফ।

সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে সিসিএনএফের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত ২ ফেব্রুয়ারি টেকনাফের হৃীলার জেলেপাড়ায় এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা কোস্ট নামের এনজিওর ছয়জন উন্নয়ন কর্মীকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেন। এনজিওটি দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। একটি প্রকল্পের উপকারভোগীদের মতামত সংগ্রহের জন্য উঠান বৈঠক চলাকালে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য রেজাউল করিমের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়।

কোস্ট ফাউন্ডেশনের যুগ্ম পরিচালক ফেরদৌস আরা রুমী বলেন, আমাদের মনে হয়েছে একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও দরিদ্র নারীদের জন্য নারী কর্মীদের কাজ করাকে ইউপি সদস্য মানতে পারেননি। এ ঘটনা কক্সবাজারে কর্মরত সব নারী কর্মীর জন্য একটি হুমকি।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের কোস্ট ফাউন্ডেশন এনজিও সংস্থার অধীনে প্রকল্প ব্যবস্থাপক তাহরিমা আফরোজ টুম্পা বলেন, নারীদের ওপর আক্রমণ ন্যাক্কারজনক, আমি এর বিচার চাই।

স্থায়ীত্বশীল উন্নয়নের জন্য সংগঠন-ইপসার নির্বাহী পরিচালক মো. আরিফুর রহমান বলেন, এ ঘটনার দ্রুত আইনি প্রতিকার চাই। রোহিঙ্গা কর্মসূচির অংশ হিসেবে টেকনাফ-উখিয়ার সাধারণ মানুষের জন্য সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে এটি পরিকল্পিত হামলা। কারণ, সব এনজিও সরকারের সহযোগী হিসেবে দরিদ্র মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

সিসিএনএফের কো-চেয়ার এবং পালসের নির্বাহী পরিচালক আবু মুর্শেদ চৌধুরী বলেন, কক্সবাজারে শত শত এনজিওকর্মী দিন-রাত পরিশ্রম করে মানুষকে সেবা দিচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করি। আগামী সাতদিনের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সিসিএনএফের সব সদস্য সংস্থা হ্নীলা ইউনিয়ন থেকে তাদের কার্যক্রম প্রত্যাহার করে নেবে।

কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, এনজিও ও সুশীল সমাজের কর্মীরা মানুষের দারিদ্র্য বিমোচন, আয় বৃদ্ধি, পিছিয়ে পড়া এলাকায় শিক্ষা সম্প্রসারণ, নারীর উন্নয়নে কাজ করে। হামলাকারীরা মানুষের উন্নয়ন চায় না, নারীর উন্নয়ন চায় না, শিক্ষার বিস্তার চায় না। মানুষ সচেতন হোক, সেটি তারা চায় না। কারণ, মানুষ শিক্ষিত ও সচেতন হলে এ ধরনের গোষ্ঠীর অন্যায়-অবৈধ কার্যক্রম হুমকিতে পড়ে। এ হামলার দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা না গেলে, নারী কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে। এতে উন্নয়ন কর্মসূচি হুমকির মুখে পড়তে পারে।

এসএম/এমকেআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]