‘স্ত্রীর যন্ত্রণায়’ পরকীয়ায় জড়িয়ে হাতেনাতে ধরা
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আবাসিক ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে এক নারীসহ স্বামীকে আটক করেছেন তার স্ত্রী। শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহরের কমলাপুর এলাকার একটি চারতলা ভবনের ওই ফ্ল্যাট থেকে তাদের আটক করা হয়। তবে ফ্ল্যাটে থাকা নারীকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেছেন ওই ব্যক্তি।
ওই দুজই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহায়ক মোকসেদ আলী ও একই অফিসে মাস্টাররোলে থাকা আয়া কল্পনা বেগম।
উপজেলা শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্বামী মোকসেদ আলীর অন্য এক নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে বলে আগে থেকে সন্দেহ করছিলেন স্ত্রী শামসুন্নাহার। আজ তিনি তথ্য পান তার স্বামী ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে এক নারীসহ অবস্থান করছেন। বিষয়টি জানতে পেরে দুপুরে ওই ফ্ল্যাটে যান শামসুন্নাহার। তিনি সেখানে গিয়ে ওই নারীর সঙ্গে স্বামীর অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত হন। তিনি কক্ষের বাইরে থেকে তালা মেরে দেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের আটক করা হয়।
পরে আটকদের উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে আনা হলে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ওই অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার স্বপ্না বেগম। তার রুমে কর্মচারী কল্পনা বেগম ও শামসুন্নাহারসহ স্থানীয় লোকজন উপস্থিত হন। তিনি মোকসেদ আলীর স্ত্রীর অভিযোগ শোনেন এবং তাকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মোকসেদ আলী বলেন, স্ত্রীর যন্ত্রণায় বাধ্য হয়ে তিনি ওই নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে তারা বিয়ে করেছেন। তবে কাবিন রেজিস্ট্রেশন হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি।
অভিযুক্ত কল্পনা বেগম বলেন, মোকসেদ আলীর সঙ্গে তার আগে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল না। শামসুন্নাহার সন্দেহ করা শুরু করলে তারা পরবর্তী সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তিন মাস আগে তাদের বিয়ে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন ।
তবে মোকসেদ আলীর স্ত্রী শামসুন্নাহারের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে তারা পরকীয়া করছেন। এ নিয়ে আগেও তৎকালীন ইউএনও ও শিক্ষা কর্মকর্তার সামনে কয়েকবার সালিশ হয়েছে। তবে তখন তাকে কেউ পাত্তা দেননি। আজ হাতেনাতে একটি রুম থেকে তাদের আটক করা হয়। তিন মেয়ে ও নাবালক দুই ছেলেকে নিয়ে তিনি আর্থিক ও মানসিক কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু উবায়েদ আলী মোবাইলে জাগো নিউজকে বলেন, ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসআর/জেআইএম