বাসযাত্রীর কোলে মিললো চুরি হওয়া সেই নবজাতক
যশোর পৌরসভার শিশু হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া নবজাতক আব্দুর রহিমকে উদ্ধারের পর তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (৭ মার্চ) মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালী এলাকায় আকলিমা খাতুন নামে এক বাসযাত্রীর কাছ থেকে নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আকলিমাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তিনি শতখালী এলাকার বাসিন্দা আলম শেখের স্ত্রী।
যশোর জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুপন কুমার সরকার জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, রোববার নবজাতক আব্দুর রহিমের বাবা কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। পরে নবজাতক উদ্ধারে পুলিশ তৎপরতা বাড়ায়। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে মাগুরার শালিখা থানার সতখালী এলাকা থেকে বাসযাত্রী আকলিমা খাতুনের কাছ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
রুপন কুমার সরকার আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আকলিমা খাতুন জানান আজ বাসে করে মাগুরা থেকে যশোর যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় অজ্ঞাতনামা এক নারী বাসযাত্রী শিশুকে তার (আকলিমা) কাছে রেখে গরম পানি আনার কথা বলে নেমে আর ফিরে আসেনি।
রুপন কুমার বলেন, ধারণা করা হচ্ছে পুলিশের তৎপরতায় চোর টের পেয়ে শিশুটিকে হস্তান্তর করে কৌশলে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে অপরাধীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। নবজাতাককে পুনরায় শিশু হাসপাতালে তার অভিভাবকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
নবজাতকের বাবা মেহেদী হাসান জনি জাগো নিউজকে বলেন, রোববার অনেক খুঁজেও ছেলের সন্ধান পাইনি। সোমবার পুলিশ দুপুর ১টার দিকে ছেলেকে আমার কাছে দেয়। ছেলেকে পেয়ে আমার স্ত্রী অনেক খুশি। আমরা হাসপাতালেই আছি। পুলিশের চেষ্টায় আমাদের সন্তানকে ফিরে পেয়েছি।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জের একটি হাসপাতালে সিজারে আসমা খাতুন ছেলে সন্তান প্রসব করেন। এরপর নবজাতকের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় ওইদিনই তাকে যশোর শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোববার দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার আগ মুহূর্তে নানি তাসলিমার কোলে বাচ্চাটি দিয়ে মা আসমা খাতুন টয়লেটে যান।
এ সময় এক নারী তাদের রুমে এসে নবজাতকের নানিকে ভালোমন্দ জিজ্ঞাসা করেন। পরে গল্প জমিয়ে নানির কাছ থেকে বাচ্চাটি কোলে নেন। এক পর্যায়ে নবজাতকের নানি হাসপাতালের বিছানা গোছাচ্ছিলেন। এ সুযোগে বাচ্চাটি নিয়ে চলে যান ওই নারী। পরে আর তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
মিলন রহমান/এসজে/এএসএম