গৃহবধূকে পিটিয়ে মুখে বিষ দেওয়ার অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ০৬:১৩ পিএম, ১৯ মার্চ ২০২২

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে লাইজু বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে আহতের পর মুখে বিষ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়।

শনিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. পলক বাদী হয়ে স্বামী ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে রায়পুর থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর থেকেই স্বামী পলাতক।

শুক্রবার (১৮ মার্চ) রাতে উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নে চরপাতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ইসমাইল ওই গ্রামের সৈয়দ আহম্মদের ছেলে।

নিহতের স্বজনদের দাবি, শুক্রবার দুপুরে ইসমাইল মদ খেয়ে বাড়ি ফেরেন। তখন তিনি বড় ছেলে নাজিমকে গালিগালাজ ও মারধর করেন। এতে প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকেও তিনি মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গেলে তখন তিনি (ইসমাইল) ভবিষ্যতে আর স্ত্রী-ছেলেকে মারধর করবে না বলে অঙ্গীকার করেন। এতে পুলিশ চলে আসে।

এদিকে, পুলিশের খবর দেওয়ার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি পরে স্ত্রীকে পেটান। একপর্যায়ে মুখে বিষ ঢেলে দেন। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। খবর পেয়ে শনিবার সকালে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় পুলিশ।

নিহত লাইজু বেগমের ভাই মো. পলকের দাবি, তাদের বোন আত্মহত্যা করেনি। তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনা অন্যদিকে প্রভাবিত করতে স্বামী ইসমাইল মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে। বোন হত্যার বিচার চান তিনি।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিপন বড়ুয়া বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে মামলা করেছেন। অভিযুক্ত ইসমাইল পলাতক। তাকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

জানতে চাইলে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাহিদ আক্তার মিতু জাগো নিউজকে বলেন, বিষপান করেছে বলে গৃহবধূ লাইজু বেগমকে হাসপাতালে আনা হয়। তাকে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে হস্তান্তর করা হয়। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না তা তখন দেখা হয়নি।

কাজল কায়েস/এমআরআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।