লক্ষ্মীপুরে ‘অদ্ভুত’ গাছ নিয়ে এলাকাবাসীর কৌতূহল
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে অদ্ভুতভাবে কয়েকটি গাছের শিকড় ওপরে উঠে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। ১৫ বছর ধরে গাছগুলো দেখে আসলেও তারা এর প্রকৃত নাম জানেন না। বন বিভাগ বলছে, গাছটি সুন্দরী জাতের। তবে নাম নিয়ে তারাও দ্বিধায় রয়েছেন। আবার বাগান মালিক বলছেন, সিঁদুর কাঠ গাছ। পুরো জেলার অন্য কোথাও এ ধরনের গাছ না থাকায় নাম জানার জন্য উদগ্রীব স্থানীয় বাসিন্দারা।
কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের চরপাগলা গ্রামে আবদুল মালেকের বাগানে ১৭টি গাছের শেকড় অদ্ভুতভাবে মাটির ওপরে উঠে আছে। বাগান মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে দুবাই প্রবাসী আবদুল মালেক স্থানীয় নার্সারি থেকে গাছগুলো এনে রোপণ করেন। প্রায় ১০ শতাংশ জমিতে সারিবদ্ধভাবে প্রায় ৪০টি গাছ লাগানো হলেও এখন আছে ১৭টি। গাছগুলো ৩০-৪০ ফুট লম্বা হলেও মোটা নয়। এর সঙ্গে লাগানো রেইনট্রি ও অর্জুন গাছ মোটা হলেও এগুলো চিকনই থেকে গেছে। এখন ওই স্থানে অন্য গাছ রোপণ করা হলেও বাঁচে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাছগুলোর শিকড় অদ্ভুতভাবে মাটির ওপরে উঠে এসেছে। তাদের কাছে এটি রহস্যময়। দেখতে অদ্ভুত লাগে। গাছটির নাম নিয়েও ধোঁয়াশা কাটছে না। সাগরপাড়ের ও পাহাড়ি বনে এমন গাছের দেখা মেলে বলে তারা শুনেছেন। কিন্তু এ অঞ্চলে এ ধরনের গাছ আগে কখনো দেখা যায়নি। এ অঞ্চলের অন্য গাছগুলোর শিকড় মাটির নিচেই থাকে।
প্রবাসী আবদুল মালেকের ভাই আবদুস শহিদ বলেন, জমি কেনার পর বাগানের জন্য নার্সারি থেকে গাছ কিনে আনা হয়। আমি ও ভাইয়া গাছগুলো কিনেছি। তখন নার্সারির মালিক বলেছিলেন, এটি সিঁদুর কাঠ গাছ। এখনো আমার স্পষ্ট মনে আছে। অনেকগুলো গাছ রোপণ করা হয়। এর মধ্যে অধিকাংশই মরে গেছে। গাছ রোপণের পাঁচ বছরের মধ্যেই হঠাৎ শিকড়গুলো অদ্ভুতভাবে ওপরে উঠতে দেখা যায়। এ নিয়ে আমাদের মাঝেও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আমাদের এলাকার অন্য কোথাও এমন গাছ দেখা যায় না।

বন বিভাগের দালালবাজার রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএফএনটিসি) চন্দন ভৌমিক বলেন, গাছটি সুন্দরী জাতের। সুন্দরী গাছ নোনাপানি এলাকা ছাড়া হয় না। কিন্তু এখানে একই জাতের গাছগুলো বেড়ে উঠেছে। এসব গাছের শিকড় মাটির ওপরেই থাকে। তবে গাছগুলো দেখে নাম চিহ্নিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের লোকজনকে বলা হবে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মিঠুন বিশ্বাস বলেন, আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে এগুলো শ্বাসমূল। অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত এই বায়ব মূলকে শ্বাসমূল বলে। এর ছিদ্রগুলোর সাহায্যে এ জাতীয় উদ্ভিদ বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন শোষণ করে। শ্বাসমূলের সাহায্যেই লবণাম্বু উদ্ভিদ (সুন্দরী) বাতাসের অক্সিজেন গ্রহণ করে শ্বাসকার্য চালায়।

তিনি আরও বলেন, সমুদ্র উপকূলের জলে ঢাকা লবণাক্ত কাদামাটিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকায় ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের শ্বসনের জন্য প্রধান মূলের শাখা অভিকর্ষের বিপরীতে সোজাভাবে গোঁজের মতো ওপরে উঠে আসে।
কাজল কায়েস/এমআরআর/এএসএম