মোহনগঞ্জে টিসিবির পণ্য না পেয়ে ফিরে গেলেন উপকারভোগীরা
কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও টিসিবির পণ্য পাননি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ২ হাজার ২৪৫ কার্ডধারী উপকারভোগী। তবে স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, নির্ধারিত সময়ে পণ্য না পৌঁছানোর কারণে প্রথমদিন কিছুটা সমস্যা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রোববার সকাল ৯টা থেকে পণ্য কেনার জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করতে থাকেন কার্ডধারী নিম্ন আয়ের লোকজন। তবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও পণ্য না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ফিরে যান অনেকেই। মোহনগঞ্জ উপজেলার বড়কাশিয়া বিরামপুর ইউপি কেন্দ্রে ৭৪৪ জন, সুয়াইড় ইউপি কেন্দ্রে ৪৩৫, পৌরসভার ৯ ও ৭ নং ওয়ার্ডে ১ হাজার ৬৬ জনসহ ২ হাজার ২৪৫ জন কার্ডধারীকে পণ্য দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টিসিবি কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে এসব পণ্য নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছায়নি।
মোহনগঞ্জ পৌর কাউন্সিলর সৈয়দ আজহারুল হোসাইন ফয়সাল জাগো নিউজকে বলেন, পণ্য না পাওয়ায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে তারা হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বিষয়টি সুন্দরভাবে তদারকি হয়নি।
সুয়াইড় ইউনিয়নের উপকারভোগী সবুজ মিয়া ও তাহের আলী জাগো নিউজকে বলেন, সকাল ৯টা থেকে কাজ ফেলে বসেছিলাম। বিকেল ৩টা পর্যন্ত পণ্যের কোনো খোঁজ ছিল না। পণ্য না পেয়ে বাড়িতে ফিরে যাচ্ছি। সারাদিনের কাজও গেলো পণ্যও পেলাম না। জিনিসপত্র না এনে আমাদের এভাবে বসিয়ে রাখা ঠিক হয়নি।
সুয়াইড় ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম সেলিম জাগো নিউজকে বলেন, টিসিবির পণ্য নিতে ৪৩৫ জন সকাল থেকে কেন্দ্রে আসেন। কিন্তু পণ্য না আসায় তারা অশান্ত হয়ে পড়েন। অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে বাড়ি ফিরে যান। পণ্য সরবরাহ না করে লোকজনকে ডেকে আনা ঠিক হয়নি।
মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছাব্বির আহমেদ আকুঞ্জি বিকেল ৫টার দিকে জাগো নিউজকে বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পণ্য সরবরাহ করতে দেরি হওয়ার মোহনগঞ্জ পর্যন্ত পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। প্রথম দিনে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। পরবর্তীকালে এমনটা যেন না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকবো। যারা অপেক্ষা করেছিলেন তারা বিকেলে নিতে পারছেন।
এদিকে জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জেলার ৮৬টি ইউনিয়ন এবং পাঁচটি পৌরসভার ২৭২টি স্পটে ৪০ জন ডিলারের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে পরিবারপ্রতি ২ কেজি চিনি ১১০ টাকা, ২ কেজি মশুর ডাল ১৩০ টাকা, ২ লিটার সয়াবিন তেল ২২০ টাকায় কিনতে পারবেন উপকারভোগীরা। জেলায় ১ লাখ ৭০ হাজার ৪৩৭টি পরিবার এই ভর্তুকি মূল্যে পণ্য কিনতে পারবেন।
এইচ এম কামাল/এমআরআর/জিকেএস