‘এতিম’ বলায় বন্ধুকে ব্লেডের পোচে হত্যা করে কিশোর
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার কোকডহরা ইউনিয়নের স্কুলছাত্র রাহাত (১৪) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে র্যাব। র্যাবের দাবি, বন্ধুকে ‘এতিম’ বলায় জীবন দিতে হয় তাকে।
শুক্রবার (২৫ মার্চ) রাতে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক কিশোর (১৪) র্যাবের হাতে আটক হওয়ার পর হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়।
শনিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব-১২ (সিপিসি-৩) এর কোম্পানি কমান্ডার মো. এরশাদুল রহমান এতথ্য জানান।
র্যাব জানায়, রাহাত ও আটক কিশোর দুই বন্ধু। তাদের বাড়িও পাশাপাশি। মঙ্গলবার (২২ মার্চ) রাতে তারা কালিহাতী উপজেলার কোকডহরা ইউনিয়নের কাগুজিপাড়া বাজারে বসে লুডু খেলছিল। এসময় ওই কিশোরকে কয়েকবার ‘এতিম’ বলে সম্বোধন করে রাহাত। এ কারণে রাহাতের ওপর ক্ষিপ্ত হয় তার বন্ধু এবং তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়।
হত্যার উদ্দেশ্যে ওই কিশোর বাজারের একটি দোকান থেকে ব্লেড ও সিগারেট কেনে। এরপর ধূমপানের কথা বলে রাহাতকে কাগুজিপাড়া এলাকার একটি পুকুর পাড়ে নিয়ে যায়। ধূমপান শেষে ব্লেড দিয়ে রাহাতের গলায় পোচ দেয়। এসময় রাহাত চিৎকার দিলে বিপ্লব মুখ চেপে ধরে আরও কয়েকবার পোচ দেয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে কাদামাটির মধ্যে মুখ চেপে ধরে।
মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ পাশের পুকুরে ফেলে দিয়ে রাহাতের মোবাইল ফোন নিয়ে বাড়িতে চলে যায় ওই কিশোর। বাড়িতে গিয়ে সে গোসল করে এবং তার রক্তমাখা জামা-কাপড় ধুয়ে ফেলে।
র্যাব আরও জানায়, শুক্রবার কালিহাতী থেকে অভিযুক্ত কিশোরকে আটক করে র্যাব। সে র্যাবের কাছে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে তার ঘর থেকে তার জামা-কাপড় ও নিহত রাহাতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (২৩ মার্চ) সকালে উপজেলার কোকডহরা ইউনিয়নের কাগুজিপাড়া এলাকা থেকে রাহাতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে বানিয়ারা গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে। সে বল্লা করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
আরিফ উর রহমান টগর/এসআর/এএসএম