৬ বছর ধরে খালের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে পিলারগুলো

আব্বাস আলী
আব্বাস আলী আব্বাস আলী , জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ১২:৩৮ পিএম, ০২ এপ্রিল ২০২২

খালের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে দৃশ্যমান দুটি পিলার (খাম্বা)। গত ছয় বছর যাবৎ নওগাঁর রানীনগর উপজেলার কাশিমপুর ও গোনা ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া রতনডারি খালের ওপর খাম্বাগুলো দাঁড়িয়ে আছে। ফুট ব্রিজের প্রাথমিক কাজ হিসেবে খাম্বাগুলো নির্মাণ করা হয়। তবে ব্রিজ নির্মাণকাজ আর আগায়নি।

রানীনগর উপজেলার ছোট যমুনা নদী প্রায় ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের কুজাইল স্লুইচগেট থেকে শুরু হয়ে রক্তদহ বিলে গিয়ে শেষ হয়েছে শাখা নদী। ১৯৯৪ সালের শুরুর দিকে স্থানীয়দের কৃষি জমিতে সেচ ব্যবস্থা ও নৌ চলাচলের স্বাভাবিক গতি ধরে রাখার জন্য এই খালের পানিপ্রবাহ সচল রাখাতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের এর উদ্যোগে খালটি খনন করা হয়। এই শাখা নদীটি রতনডারি খাল নামে পরিচিত।

খালটি উপজেলার কাশিমপুর ও গোনা ইউনিয়নকে পৃথক করেছে। খালের দক্ষিণ পাড়ে গোনা ইউনিয়নের ভবানিপুর গ্রাম এবং উত্তর পাড়ে কাশিমপুর ইউনিয়নের সর্বরামপুর গ্রাম। দীর্ঘদিন থেকে এখানে কোনো ব্রিজ না থাকায় ১০ গ্রামের অন্তত ১৫ হাজার মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ দুই ইউনিয়নের সংযোগ ঘটাতে উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিল থেকে একটি ফুট ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু গত ৬ বছরেও ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। এলাকাবাসীর উন্নয়ন ও দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ করে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানানো হয়।

জানা গেছে, রানীনগর উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিল থেকে ২০১৬ সালে মার্চ মাসে দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজটির ঠিকাদারি দায়িত্ব পেয়েছিলেন নওগাঁ সদরের পার-নওগাঁ মহল্লার গোলাম কিবরিয়া। কাশিমপুর ইউনিয়নের সর্বরামপুর ও গোনা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রাম সংলগ্ন রতনডারি খালের ওপর প্রায় ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ফুট ব্রিজ নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। দরপত্র অনুসারে শুষ্ক মৌসুমে ওই খালের দুই পাড়ে খাম্বা (পিলার) নির্মাণের কাজ করা হয়।
উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর ব্রিজটির তত্ত্বাবধানে ছিলো। কিন্তু পরে রহস্যজনক কারণে কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। আবারও চলতি (২০২১-২২) অর্থ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ব্রিজটির জন্য ১৪ লাখ ৭৪ হাজার ১৬৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই পরিমাণ টাকা দিয়ে আরো দুইটি খাম্বা তৈরি করা সম্ভব। তবে ব্রিজটির কাজ সম্পূর্ণ করতে অ্যাপ্রোচ সড়কসহ এখনো প্রায় ৩০ লাখ টাকার প্রয়োজন বলে জানা গেছে।

সেসময় রতনডারি খালের ওপর সর্বরামপুর ও ভবানীপুর চৌতাপাড়া নামক স্থানে চারটি খাম্বা (পিলার) তৈরি করা হলেও খালের মাঝখানে দুটি খাম্বা দৃশ্যমান। নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় ব্রিজের আংশিক অবকাঠামো নষ্ট হচ্ছে।

খালের দক্ষিণ পার গোনা ইউনিয়নের ভবানিপুর, বেতগাড়ি, বয়না, হঠাৎপাড়া ও ডাঙ্গাপাড়া গ্রাম এবং উত্তর পার কাশিমপুর ইউনিয়নের সর্বরামপুর, কাশিমপুর, এনায়েতপুর ও কুজাইলসহ প্রায় ১০টি গ্রাম অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরে এই ফুট ব্রিজের নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় দুই ইউনিয়নের অন্তত ১৫ হাজার মানুষকে খাল পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হেঁটে চলাচল করতে পারলেও বর্ষা মৌসুমে নৌকাই একমাত্র ভরসা এলাকাবাসীর।

সর্বরামপুর গ্রামের ৮০ বছরের বৃদ্ধ হরমুজ সরদার বলেন, খালের ওপারে দুইবিঘা ফসলি জমি আছে। বছরের তিনমাস মতো খালে পানি থাকে না। যদি হঠাৎ করে বৃষ্টি হয় তখন খালে পানি জমে। সে সময় ইরি-বোরো শুকনো ফসল পারাপারের সময় খালের পানিতে ভিজে যায়। একটি ব্রিজ আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। কয়েক বছর আগে চারটি খাম্বা বসানোর পর আর কোনো খোঁজখবর নেই। ওপর থেকে প্রতি বছরই মানুষ এসে দেখে যায়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

ভবানিপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বারী বলেন, খালটি আমাদের দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের পৃথক করেছে। প্রায় ১০০ ফুট প্রস্থের এ খালটির জন্য আমাদের বছরের পর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান বাবু বলেন, দুই ইউনিয়নের মাঝখানে খালটি অবস্থিত। সেখানে একটি ব্রিজ এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। খালের ওপর ব্রিজটি হলে দুই ইউনিয়নের ১০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়াসহ এলাকার আর্থসামাজিকের উন্নয়ন হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসা-যাওয়া সহজ হবে।

রানীনগর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) শাহ মো. শহিদুল হক বলেন, উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ব্রিজের কাজটি হচ্ছে। আমরা শুধু তত্ত্বাবধান করছি। নতুন করে কিছু বরাদ্দ পাওয়া গেছে যা দিয়ে আরো দুইটি পিলার (খুঁটি) করা সম্ভব। তবে ব্রিজ নির্মাণে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজটি সম্পূর্ণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

রানীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ বলেন, ওই এলাকার বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য ফুট ব্রিজটি খুবই জরুরি। ওই ব্রিজটার জন্য যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন তা উপজেলা পরিষদের পক্ষে একবারে দেওয়া সম্ভব না। চলতি অর্থ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় কিছু বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে ব্রিজের কাজটা সম্পূর্ণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এফএ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।