রাতের আঁধারে ধানি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আবাদ করা বোরো ক্ষেতের মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়। এতে কয়েক একর জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে উর্বরতা হারিয়ে অনাবাদি হয়ে পড়ছে আবাদি জমি। কমতে শুরু করেছে ফসলের উৎপাদন।
ইটভাটার মালিকরা কৃষকদের প্রলোভন দেখিয়ে রাতের আঁধারে ভেকু মেশিন দিয়ে এসব ফসলি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ভাটামালিকরা আবাদি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের মীর দেওহাটা মৌজায় উপজেলা পরিষদের দক্ষিণ পাশে মেসার্স রান ব্রিকস ও এসএমবি-১ সহ কয়েকটি ইটভাটা রয়েছে। ইটভাটাগুলোর আশপাশে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি। এসব জমিতে প্রতি বছর ধান, সরিষা ও সবজির আবাদ করেন কৃষকরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভাটাগুলোতে ইট প্রস্তুত করতে বিপুল পরিমাণ মাটির প্রয়োজন হয়। এজন্য ইটভাটা মালিকরা কৃষকদের প্রলোভন দেখিয়ে আবাদি জমির মাটি কিনে নিচ্ছেন। জমির মালিকরা না বুঝেই ইটভাটার মালিকদের কাছে প্রতি শতাংশ জমির মাটি ৮ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন। পরে ইটভাটা মালিকরা ভেকু মেশিনের দিয়ে ডাম্প ট্রাক ভর্তি করে ফসলি জমির মাটি ইটভাটায় নিচ্ছেন। এতে জমির উর্বরতা শক্তি কমতে শুরু করলেও এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সতর্ক করা হচ্ছে না।

মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) মীর দেওহাটা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মেসার্স রান ব্রিকস ও এসএমবি-১ ইটভাটার মালিকরা আবাদ করা বোরো ধানের গাছসহ ধানের জমির মাটি প্রায় ১৫ থেকে ১৮ ফুট গভীর করে কেটে ইটভাটায় নিচ্ছেন। প্রতি রাতে ১৫ থেকে ২০টি ট্রাকযোগে এসব জমির মাটি ভাটায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে পাশের জমিরও ক্ষতি হচ্ছে।
মেসার্স রান ব্রিকসের মালিক শামীম খান ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, অনেক ইটভাটায় ফসলি জমির মাটি নেওয়া হচ্ছে। আগে তাদের বন্ধ করতে বলেন তারপরই আমি বন্ধ করবো। পাশের জমির ক্ষতির কথাও স্বীকার করেন তিনি।

এসএমবি-১ ইটভাটার মালিক সাবেক ইউপি মেম্বার মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রতি বছর ইটভাটায় মাটি নেওয়া হয়। এ বছরও আবাদি জমির মাটি ভাটায় নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার পাল বলেন, ‘একজন কৃষক তার জমির মাটি বিক্রি করলে আমাদের কী আর করার আছে!’

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে মাটি ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হচ্ছে। তবে ওই এলাকার বিষয়টি আমার জানা নেই। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এস এম এরশাদ/এসআর/জিকেএস