জিলাপিতে তেলাপোকা, দইয়ে পাওয়া গেলো ইঁদুরের পায়ের চিহ্ন!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ১০:৪৯ এএম, ০৮ এপ্রিল ২০২২

অস্বাস্থ্যকর ও ভেজাল খাবার এটা নতুন কিছু নয়। তারপরও মানুষ আশায় থাকে অন্তত রমজানে ব্যবসায়ীরা এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকবেন। কিন্তু বরাবরের মতো এই রমজানেও কোথাও কোথাও দেখা মেলে ভেজাল খাবার। সেই খাবারের পেছনের কথা শুনলে যে কেউ শিউরে উঠবেন।

সম্প্রতি যশোরে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ইফতারিসহ অন্য খাবারে যা দেখেছে তা রীতিমতো পিলে চমকে ওঠার মতো।

অভিযানে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দেখেন, জিলাপির খামিতে তেলাপোকার মল, দইয়ে ইঁদুরের পায়ের চিহ্ন! ছিল বাসি ইফতারি। পুনরায় বিক্রির উদ্দেশ্যে আগের দিনের ইফতারি সংরক্ষণ করা হতো। খাবারে ক্ষতিকারক রং ব্যবহার। এছাড়া নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি, মিষ্টিতে মাছি, বাসি ও দুর্গন্ধযুক্ত মিষ্টি পুনরায় প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রির উদ্দেশ্য ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।

এসব ঘটনায় যশোর শহরের ঘোপ বাবলাতলা ও উপশহর এলাকার তিনটি প্রতিষ্ঠানকে করা হয়েছে ২৪ হাজার টাকা জরিমানা।

এর মধ্যে একটি হচ্ছে উপশহরের ‘সাতক্ষীরা ঘোষ ডেইরি’। এই প্রতিষ্ঠানে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি সংরক্ষণ, বাসি-দুর্গন্ধযুক্ত মিষ্টি পুনরায় প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রি করা এবং ক্ষতিকারক রং (নন ফুডগ্রেড কালার) ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এদের জরিমানা করা হয়েছে ১৫ হাজার টাকা।

jagonews24

একই এলাকার লাভলু সুপার শপে বাসি ইফতারি পুনরায় বিক্রির উদ্দেশ্যে ফ্রিজে রাখা হয়েছিল। এছাড়া তাদের জিলাপির খামিতে দেখা যায় তেলাপোকার মল। ফলে এই প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়েছে দুই হাজার টাকা।

অপরদিকে ঘোপ বাবলাতলার ‘সূর্য ঘোষ ডেইরি’তে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি, মিষ্টিতে মাছি ও দইয়ে ইঁদুরের পায়ের চিহ্ন এবং খাবারে ক্ষতিকারক রঙ ব্যবহার করায় জরিমানা করা হয় সাত হাজার টাকা।

অভিযানে ছিলেন- ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ওয়ালিদ বিন হাবিব। তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, যশোরের নিরাপদ খাদ্য অফিসার শাকিল আহম্মেদ।

মিলন রহমান/জেডএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।