বাংলা নববর্ষ: পাবনায় ঘোড়ার গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ১০:০০ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০২২
ঘোড়ার গাড়ির দৌড়

নববর্ষ উপলক্ষ্যে পাবনার সাঁথিয়ায় জমে উঠেছে ঘোড়ার গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা। শনিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল থেকে সাঁথিয়া উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মাহমুদপুর গ্রামে এ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। চলবে সপ্তাহ জুড়ে। নববর্ষ উপলক্ষ্যে পাবনার সাঁথিয়ায় জমে উঠেছে ঘোড়ার গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা। শনিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল থেকে সাঁথিয়া উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মাহমুদপুর গ্রামে এ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। চলবে সপ্তাহ জুড়ে। 

হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ ঐতিহ্য ঘোড়ার গাড়ি দৌড় প্রতিযোগিতার মূল উদ্যোক্তা এ গ্রামেরই বাসিন্দা ও নন্দনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রেহানা খাতুন। এ প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে পেরে খুশি এলাকার লোকজনও। 

রোববার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে ইউনিয়নের পশ্চিম মাহমুদর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, অন্তত দেড়শ’ বিঘা এলাকা জুড়ে বিশাল বৃত্ত তৈরি করা হয়েছে। বৃত্তের বাইরে দিয়ে চক্রাকারে চলছে ঘোড়ার গাড়ির দৌড়। এ প্রতিযোগিতা দেখতে গ্রীষ্মের বিকেলেও ছিল কয়েকশ’ মানুষের ভিড়। 

দর্শকনার্থীরা বিশাল মাঠজুড়ে গোল হয়ে বসা, কেউবা দাঁড়িয়ে। দৃষ্টি সবার ঘোড়ার গাড়ির দিকেই। ঘোড়ার গাড়ির যখন দৌড় শুরু হয় তখন দর্শক করতালি দেন। এ দৌড়ে সাদা, কালো, লাল, চিত্রা হরেক রঙের ঘোড়া রয়েছে। কিন্তু এসব ঘোড়াকে কেউ ‘ঘোড়া’ বলে ডাকে না। স্বভাব আর চরিত্র ভেদে এদের মালিকরা নাম দিয়েছে ‘পঙ্খিরাজ’, জাম্বু, ‘সবুজ বাংলা’, ‘টাইটানিক’, ‘বাংলার বাঘ’, ‘টাইগার’, ‘হাওয়াই’, ‘রংবাজ’, ‘কালিয়া’, লালু, রুপবান, ‘মাঠের রাজা’ ইত্যাদি। একেক রাউন্ডে জয়ীদের নিয়ে চলে জয়োল্লাস।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রামের এ বিশাল মাঠে চাষ হয়েছিল পেঁয়াজের। কয়েকদিন হলো চাষিরা পেঁয়াজ তোলা শেষ করেছেন। বৃষ্টির অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। বৃষ্টি হলেই নতুন ফসল বোনা হবে। মাঝের কয়েকটা দিন খালি পড়ে আছে বিশাল ফসলি মাঠ। জমির মালিকদের স্বতস্ফূর্ত সমর্থন নিয়ে গ্রামের কিছু বিনোদনপ্রেমী মানুষ আয়োজন করেছেন হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ ঐতিহ্য ঘোড়ার গাড়ি দৌড় প্রতিযোগিতা। এর মূল উদ্যোক্তা মহিলা মেম্বার রেহানা খাতুন। 

তার সঙ্গে সক্রিয় সহযোগিতায় রয়েছেন একই গ্রামের মাঝবয়সী মোন্নাফ আলী। তিনি আলী জানান, গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখতে ও নতুন প্রজন্মের কাছে ঘোড়ার গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা পরিচিত করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন। 
আয়োজকরা জানান, ৪০টি ঘোড়ার গাড়ির প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। রোববার থেকে শুরু হয় নক আউট পর্ব। নক আউট পর্ব শেষে মোট ছয়টি গাড়িকে ফাইনালের জন্য রাখা হবে। ফাইনালে বিজয়ী ও রানার্স আপ ঘোড়ার গাড়িওয়ালার জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে।

ঘোড়ার গাড়ি দেখতে আসা আতাইকুলা থানার চরপাড়া গ্রামের নায়েব আলী (৪৫) জানান, তিনি এ প্রথম ঘোড়ার গাড়ির দৌড় দেখলেন। হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য কিছুদিনের জন্য ফিরে আসায় সবার মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। 

মাহমুদপুর গ্রামের বসিন্দা আব্দুল মজিদ (৪৮) বলেন, তিনি এর আগে কোনো দিন ঘোড়ার গাড়ির দৌড় দেখেননি। জীবনে এ প্রথম দেখলেন। তার কাছে খুব ভালো লেগেছে। 

রকিব উদ্দিন (৭০) নামে প্রবীণ এক ঘোড়ার গাড়ির মালিক জানালেন, ‘৩৫ বছর ধরে টমটম গাড়ি (যাত্রীবাহী ঘোড়ার গাড়ি) চালিয়েছি। আগে সড়কেই আমরা বাইচ দিতাম। এখন এসব বাইচ হয়-ই না বলা চলে। আমি দৌড়ে এক পর্বে প্রথম হয়েছি। 

সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম জামাল আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ঘোড়ার গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতির অংশ। দিনে দিনে এরকম অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার পথে। নববর্ষ উপলক্ষ্যে গ্রামের মানুষের নির্মল আনন্দ দেওয়ার জন্য ঘোড়ার গাড়ির দৌড়ের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রবীণরা যেমন স্মৃতি রোমন্থনের সুযোগ পাচ্ছেন তেমনি নতুন প্রজন্মও আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্য সম্বন্ধে ধারণা এবং আনন্দ পাচ্ছে।

আমিন ইসলাম জুয়েল/এসজে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।