পায়ের রগ কেটে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয় বৃদ্ধের মরদেহ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০১:৪০ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০২২
কান্নায় ভেঙে পড়েন শহিদুল ইসলামের স্ত্রী

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে পায়ের রগ কেটে শহিদুল ইসলাম (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে তার মরদেহ।

সোমবার (১৮ এপ্রিল) সকালে শিবনগর ইউনিয়নের দাদপুর পুরাতন বন্দরে বন্ধ থাকা আফতার আলী হাসকিং মিল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় তাকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি ও আদালতের মামলার কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়।

নিহত শহিদুল ইসলাম দক্ষিণ বাসুদেবপুর নয়াপাড়া গ্রামের মৃত আশরাফ মন্ডলের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষি শ্রমিক ছিলেন।

আফতার আলী হাসকিং মিলের পাহারাদার কানু মহন্ত বলেন, ‘মিলটি দেড়মাস থেকে বন্ধ রয়েছে। পাহারারত অবস্থায় ৪টায় মিলের পেছনে গিয়ে দেখি পরিত্যক্ত একটি কক্ষের বারান্দায় এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ। পরে বিষয়টি মিলমালিক ও স্থানীয়দের জানালে তারা পুলিশে খবর দেন।’

মিলমালিক আফতার আলী বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি শহিদুল ইসলামের মরদেহ মিলের বারান্দায় ঝুলছে। পরে বিষয়টি তার পরিবার ও থানাকে জানানো হয়। মিল দেড়মাস থেকে বন্ধ। এরই সুযোগে কেউ রাতে হত্যা করে শহিদুলের মরদেহটি মিলের একটি পরিত্যক্ত কক্ষের বারান্দায় ঝুলিয়ে রেখেছে। মরদেহর পাশে একটি ছুরি ও আদালতের কাগজপত্র পড়েছিল।’

শহিদুল ইসলামের স্ত্রী কাওছার বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী শ্রমিক। তিনি অন্যের জমি ও চাতালে কাজ করতেন। আমাদের বসতভিটার জমি নিয়ে স্থানীয় হামিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে আদালতে মামলা বিচারাধীন। রোববার দিনাজপুরে আদালতে মামলার শুনানির তারিখ ছিল। সকাল ৯টা আদালতের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান স্বামী। কিন্তু বিকেল পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় আইনজীবীর মাধ্যমে জানতে পারি তিনি অনেক আগে দিনাজপুর থেকে ফুলবাড়ীতে চলে এসেছেন। রাতেও বাসায় ফিরেননি। সোমবার ভোরে জানতে পারি আফতাব আলী হাসকিং মিলে স্বামীর মরদেহ ঝুলছে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘মামলার কারণেই আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা খুনিদের বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ আছে ঠিকই। কিন্তু তার পরিবারের পক্ষ থেকে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা মিথ্যা। এর সঙ্গে আমার কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা নেই।’

ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হলেও এটি হত্যার আলামত। নিহতের মরদেহ উদ্ধার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনা তদন্তে মাঠে নেমেছে পুলিশ। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এমদাদুল হক মিলন/এসজে/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।