হিটলুকে কুপিয়ে হত্যায় আ’লীগ নেতাসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
বগুড়ার ধুনটে জুয়া খেলা ও মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আরিফুল ইসলাম হিটলুকে (৩৮) কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। এতে উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নবাব আলীসহ ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) সকালে নিহত হিটলুর স্ত্রী শেফালী খাতুন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। নিহত হিটলু উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের বেড়েরবাড়ি গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আরিফুল ইসলাম হিটলুর পেশা ছিল জুয়া খেলা ও মাদক ব্যবসা। প্রতিবেশী আব্দুল মালেক ছিলেন তার অংশীদার। হিটলুর বিরুদ্ধে পুলিশ সদস্যকে পেটানো, মাদক ও জুয়া আইনে আটটি মামলা এবং আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে পুলিশ পেটানো ও মাদকদ্রব্য আইনে দুটি মামলা রয়েছে।
জুয়া খেলা ও মাদক ব্যবসার টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে কয়েক মাস আগে থেকে হিটলু ও মালেকের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। তখন থেকে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুজন পৃথকভাবে দল গঠন করেন। এ অবস্থায় আব্দুল মালেকের গ্রুপের নবাব আলীকে শবে বরাতের রাতে অপহরণের চেষ্টা করেন হিটলু ও তার লোকজন। এ ঘটনার পর থেকে তাদের বিরোধ আরও তীব্র হয়।
এদিকে, শনিবার সন্ধ্যার দিকে হিটলু ও তার লোকজন আব্দুল মালেককে কুপিয়ে জখম করেন। এতে হিটলুর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন আব্দুল মালেক, নবাব আলী ও তার লোকজন। তাদের শতাধিক লোক সংঘবদ্ধ হয়ে রাত ৯টার দিকে কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে এনে বেড়েরবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনের রাস্তায় হিটলুকে কুপিয়ে হত্যা করেন। এরপর তারা মরদেহ টেনে হেঁচড়ে শাহজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের টাইরপাড়া এলাকার একটি কবরস্থানে মাটি চাপা দিয়ে রাখেন।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা নবাব আলী জাগো নিউজকে বলেন, হিটলু এলাকার সন্ত্রাসী ছিল। তার অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। তাই ক্ষুব্ধ হয়ে গ্রামবাসী তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তবে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমি জড়িত ছিলাম না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আমাকে আসামি করা হয়েছে।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা জাগো নিউজকে বলেন, হিটলু হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।
এসজে/জেআইএম