এনজিওর ঋণই কাল হলো ইতির জীবনে
এনজিও থেকে নেওয়া ঋণ শোধ নিয়ে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর ইতি খাতুন (২৯) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামে মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
গৃহবধূ ইতি খাতুন হাসানপুর গ্রামের মো. ইকবালের মেয়ে ও আজিজুল হকের স্ত্রী। আজিজুল হক পেশায় কাঠমিস্ত্রি। ওই দম্পতির ৬ বছরের একটি ছেলে রয়েছে।
পুলিশ এবং ওই নারীর স্বজনরা জানান, প্রায় ৮ বছর আগে হাসানপুর গ্রামের ইতি খাতুনের বিয়ে হয় একই গ্রামের আজিজুল হকের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকেই তাদের পরিবারে অভাব ছিল। সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে ইতি সাঁথিয়া উপজেলার একটি এনজিওর বনগ্রাম শাখা থেকে প্রায় ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে স্বামীকে দেন। কিন্তু ওই ঋণের কিস্তি দেওয়ার সময় এলেই তা দিতে স্বামী অনীহা প্রকাশ করতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ লেগে থাকত। মাঝেমধ্যে ইতি তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনেও কিস্তি শোধ করতেন।
মঙ্গলবার দুপুরে ওই এনজিওর এক মাঠকর্মী কিস্তি নিতে আসেন ইতির বাড়িতে। এ সময় কিস্তির টাকা পরিশোধ করা নিয়ে স্বামীর সঙ্গে ইতির ঝগড়া হয়। এরপর তিনি টাকার জন্য তার বাবার বাড়িতে যান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি টাকা চাননি। নিজ বাড়ি ফিরে এসে সবার অগোচরে শোয়ার ঘরে আঁড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
ইতির ভাই মো. হাবিল জানান, তারা দুই ভাইবোন যমজ। তাদের ৩ ভাইয়ের একটি মাত্র বোন ছিল ইতি। তিনি সুজানগর উপজেলার চিনাখড়া বাজারে ব্যবসা করেন। ঘটনার কিছু আগে তার বোন তাদের বাড়িতে এসেছিল বলে জানতে পেরেছেন। কিন্তু কাউকে কিছু না বলে সে চলে যায়।
তিনি জানান, বোন টাকা চাইলে তারা কখনো না করতেন না। হয়ত লজ্জায় ও অভিমান করে সে এবার টাকা চায়নি।
এ ব্যাপারে ইতির ভাই মো. হাবিল বাদী হয়ে সাঁথিয়া থানায় একটি ইউডি মামলা করেছেন।
সাঁথিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রউফ মঙ্গলবার রাতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় লাশঘরে রাখা হয়েছে। বুধবার (২০ এপ্রিল) মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। এরপর মৃতদেহ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুর রউফ ওই এনজিও কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আরো জানান, তারা কিস্তি আদায়ে ওই নারীর সঙ্গে কোনো খারাপ ব্যবহার করেননি। তারা নিয়মমাফিক কিস্তি পরিশোধের জন্য শুধু তাগাদা দিয়েছেন বলে এনজিও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আমিন ইসলাম জুয়েল/এফএ/এমএস