পরকীয়া-বিয়ে-তালাক, সাবেক স্বামীকে হত্যার ৬ বছর পর গ্রেফতার নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৮:০১ পিএম, ২৬ এপ্রিল ২০২২
গ্রেফতার ফরিদা বেগম

বগুড়ার শিবগঞ্জে লাভলু সরকার হত্যা মামলায় ছয় বছর পর মূল আসামি ফরিদা বেগম (৪৫) ও তার সহযোগী আব্দুল গফুরকে (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গত রোববার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে ফরিদাকে গ্রেফতার করে পিবিআই। তিনি নিহত লাভলুর সাবেক স্ত্রী। পিবিআই বলছে, লাভলুর যৌনাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ফরিদা।

ফরিদা বেগম শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের ফজর উদ্দিনের মেয়ে এবং তার সহযোগী আব্দুল গফুর সোনাতলা উপজেলার মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে।

মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে পিবিআই বগুড়ার পুলিশ সুপার আকরামুল হোসেন তার নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গ্রেফতারের পর ফরিদা বেগম ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার বিষয় ও ঘটনার বর্ণনা দেন তিনি। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের নামও প্রকাশ করেন ফরিদা। পরে তার জবানবন্দি অনুযায়ী আব্দুল গফুরকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সুপার আকরামুল হোসেন বলেন, ২০১৬ সালের ১১ জুলাই শিবগঞ্জের কৃষ্ণপুর এলাকার একটি মেহগনি বাগানে গরু ব্যবসায়ী লাভলুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে লাভলুর স্ত্রী নূরজাহান খাতুন। পরে মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই।

আকরামুল হোসেন বলেন, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। লাভলু ও ফরিদার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল যা ফরিদার স্বামী মিনু ব্যাপারী জানতে পারেন এবং তাকে তালাক দেন। তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার পর লাভলু ফরিদাকে বিয়ে করেন। তবে বিয়ের ছয়দিন পরই তাকে তালাক দেন লাভলু। তালাক দেওয়ার পরও লাভলু ফরিদাকে জিম্মি করে নিয়মিত শারীরিক সম্পর্ক করতেন। যার ফলে ফরিদা বেগমের মনে ক্ষোভ জন্মে। লাভলুর কারণে আগের স্বামীর কাছ থেকে তালাকপ্রাপ্ত হওয়া ও জিম্মি করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনসহ বিভিন্ন কারণে লাভলুর ওপর আসামি ফরিদা প্রতিশোধপ্রবণ হয়ে ওঠেন এবং তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ১০ মে রাত ৯টার দিকে শারীরিক সম্পর্কের প্রলোভনে ফরিদা বেগম লাভলু সরকারকে মোবাইল ফোনে শিবগঞ্জের কৃষ্ণপুর গ্রামে একটি মেহগনি বাগানে আসতে বলেন। লাভলু ওই স্থানে আসার পর পরিকল্পনা অনুযায়ী ফরিদা তার অন্য সহযোগীদের সহায়তায় হাত-পা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে চলে করেন। একপর্যায়ে ফরিদা বেগম নিজ এলাকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়ান।

গত রোববার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে ফরিদাকে গ্রেফতার করে পিবিআই। পরে তিনি ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার বিষয় ও ঘটনার বর্ণনা দেন ফরিদা।

পিবিআই বগুড়ার পুলিশ সুপার আরও বলেন, ফরিদা ও গফুরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

এমআরআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।