বাথানে রাখাল-গরুর সখ্য
পাবনার বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে গো-চারণভূমি (স্থানীয় ভাষায় বাথান)। এসব বাথানে চরে বেড়ায় নানা রঙের উন্নত জাতের দুধেল গাভি। এসব গাভি এতটাই প্রভুভক্ত যে তাদের নাম ধরে ডাকতেই রাখাল ও খামারিদের কাছে চলে আসে। নানা নামে ডাকা হয় তাদের। কৌতূহলী অনেকেই অবলা প্রাণীর এমন বুদ্ধিমত্তা দেখতে গ্রামের গহীনে বাথান ঘুরতে আসেন।
পাবনার ভাঙ্গুরা উপজেলা থেকে শুরু করে শাহজাদপুর পর্যন্ত নাগডেমড়া, পাথাইল হাট, সেলন্দা, হাড়িয়া, বিল চান্দো, কেনাই, রতনপুর, শাকপালা, চর ততুলিয়া, বহলবাড়ী এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে পাঁচ শতাধিক বাথান রয়েছে। এসব বাথানে এক থেকে দেড়লাখ উন্নত জাতের গরু পালন করা হয়।
বাথানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সংখ্যাও ৮০-৯০ হাজার। বেশিরভাগ বাথানই যৌথ মালিকানায় গড়ে ওঠা। গ্রামের ৫-১০ জন কৃষক মিলে একত্রে একটি বাথানে গরু রাখেন। একটি বড় বাথানে ৫০০-৭০০ পর্যন্ত গরু থাকে। অনেকে এককভাবে বাথানে গরু রাখেন।

বাথানে রাখা গরুর দেখভাল করেন মূলত রাখালরা। ৫-৬ মাস তাদের মাঠেই কেটে যায়। ভাওড় (থাকার ঘর) বানিয়ে রাতযাপন করেন। রাখালদের কাজ গরুর যত্ন নেওয়া, খাবার দেওয়া, মাঠে চরানো, গোসল করানো, দুধ দোহন করা এবং তা বিক্রয় কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া।
অগ্রহায়ণ থেকে জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় পর্যন্ত বাথানে গরু থাকে। এ কয়েক মাসে চারণভূমি সবুজ ঘাসে ভরা থাকে। বিশেষ করে লকলকে খেসারি ও উন্নত জাতের ঘাসক্ষেত চোখে পড়ে। এসব ভরাট ঘাসের ক্ষেতে রং-বেরঙের হৃষ্টপুষ্ট ফ্রিজিয়ান, শাহিওয়াল, জার্সি, সিন্ধিসহ নানা জাতের গাভির বিচরণ সবার কাড়ে সবার।
বাথানে রাখালদের কাজ গরুর যত্ন নেওয়া, খাবার দেওয়া, মাঠে চরানো, গোসল করানো, দুধ দোহন করা এবং তা বিক্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া।

একটি বাথানে গিয়ে কথা হয় আব্দুল শুকুর প্রামাণিকের সঙ্গে। তিনি এক খামারে রাখাল হিসেবে কর্মরত। তিনি জানান, যে নামে ডাকা দেওয়া সে নামের গাভিগুলো চলে আসে। একটু এদিক ওদিক হয় না।
শুকুর প্রামাণিক ডাক দিলেন তারাচাঁদ, চিতামন, বগুড়া, জয়বাংলা, পূর্ণিমা, কালা মানিক, মেঘনা, শাবানা, আল্লাদি, মৌসুমী, রাজাকার, ববিতাসহ আরও নানা নামে। তার ডাক শুনে গাভিগুলো চলে আসে খাবারের কাছে।
নাম ধরে ডেকে পাওয়ার রহস্য সম্বন্ধে তিনি জানালেন, বাছুর জন্মের পর গাভিকে কয়েকদিন যে নামে ডাকা হয় বাছুরটিও সে নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে সে ওই নামেই সাড়া দেয়।
বাথান এলাকার বিষয়ে পাবনার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আল মামুন হোসেন মন্ডল জাগো নিউজকে বলেন, পাবনা চলনবিল অধ্যুষিত এলাকা। এখানকার বিশাল গো-চারণ ভূমিকেই বাথান বলে। বাথান থাকায় চাষিরা যেমন লাভবান হচ্ছেন তেমনি দুধের উৎপাদন বাড়ায় ভোক্তারাও উপকৃত হচ্ছেন।
এসআর/জিকেএস