কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ভবনের উদ্বোধন বুধবার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৭:৫৩ পিএম, ১৬ মে ২০২২
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ভবন

আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর ছয় বছরের মাথায় দশতলা নিজস্ব ভবন পেয়েছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। বুধবার (১৮ মে) এটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে তিনি ভবনটি উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) ফোরকান আহমেদ।

সোমবার (১৬ মে) দুপুরে কউক ভবনের হলরুমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়ে তিনি। কউক চেয়ারম্যান বলেন, শূন্য থেকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এখন কক্সবাজারবাসীর আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। শুরুতে আইনের একটি বই ছাড়া হাতে কিছুই ছিল না। এখন লালদিঘী, গোলদিঘী ও বাজার ঘাটা পুকুর সংস্কারের পর ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে কউকের ১০তলা নিজস্ব ভবন উদ্বোধন হতে যাচ্ছে।

কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগ ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের তত্বাবধানে এ অফিস প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। ব্যয় সাশ্রয়ে ভবনটি নির্মাণ শেষে মোট বরাদ্দ ১১৪ কোটি ৩৭ লাখ থেকে ৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে নির্মাণ তদারকি সংস্থা।

jagonews24

কউক চেয়ারম্যান ফোরকান আহমেদ বলেন, মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী কক্সবাজারকে আধুনিক, আকর্ষণীয় ও পরিকল্পিত পর্যটন নগরী হিসেবে সাজানোর প্রথম যাত্রা এ কউক ভবন; এমনটি মনে করছি আমি। এরইমধ্যে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। আশা করছি, সঠিক সময়ে নির্ধারিত দিনে প্রধানমন্ত্রী ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

নির্মাণ তদারকি প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত বিভাগ কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, কউক চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) ফোরকান আহমেদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ২০১৭ সালের ২৭ মার্চ কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) নিজস্ব অফিস ভবনের জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ভূমি বরাদ্দ কমিটি এক দশমিক ২১ একর জমি বরাদ্দ দেন। একই বছর কউকের বহুতল অফিস ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। ভবনটি নির্মাণের জন্য একনেকে ১১২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব পায় গণপূর্ত ও স্থাপত্য অধিদপ্তর।

তিনি আরও জানান, ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ২০২০ সালে ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে সময় বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে আরও ২ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ে। ২০২১ সালে এসে শেষ হয়ে এ বছর ১৮ মে ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

jagonews24

গণপূর্তের এ নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন, সবার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টায় ভবন নির্মাণে মোট প্রকল্প ব্যয় ১১৪ কোটি ৩৭ লাখ থেকে ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়। সাশ্রয় হওয়া টাকা সরকারের কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

কউক চেয়ারম্যান আরও বলেন, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘদিন ভবন ভাড়া নিয়ে অফিসের কাজ করতে হয়েছে। আমরা আধুনিক ভবন নির্মাণ করে নিজস্ব অফিস পেয়েছি। অফিসের সংকট দূর হয়েছে। এতে কক্সবাজারকে ঘিরে সরকারের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী একটি আধুনিক, আকর্ষণীয় ও পরিকল্পিত পর্যটন নগরী বাস্তবায়ন করা সহজ হবে। এর আগে সরকার কউকের অধিক্ষেত্র ঠিক করে দিয়েছে। এখন কাজের গতি বাড়বে।

প্রকল্পের সুবিধাদি সম্পর্কে প্রকল্প তদারক কর্মকর্তা কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ওমর ফারুক জানান, কউকের বহুতল অফিস ভবনে মুক্ত বাতাস চলাচল নিশ্চিত করণে ভেন্টিলেটরসহ ক্রস ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রয়েছে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণাগার। স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি), নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবে সোলার প্যানেল ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক ফিটিংস ও যন্ত্রপাতি, সিসিটিভি, ফায়ার প্রোটেকশন সিস্টেম, সিকিউরিটি লাইটিং, ব্যাংক ব্যবস্থা, ২১০ আসনবিশিষ্ট একটি মাল্টিপারপাস হল, ১৫০ আসনের তিনটি সেমিনার হল, ১৫০ আসনের দুইটি কনফারেন্স কক্ষ, বজ্রপাত প্রতিরোধক ব্যবস্থা, ভবনের ১০ তলায় রয়েছে অত্যাধুনিক মানের রেস্ট হাউজ সুবিধা। প্রকল্পটি পরিবেশবান্ধবের মাপকাঠিতে সবুজ প্রকল্প হিসেবে গড়ে উঠেছে। ভবনের অষ্টম তলায় থাকবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের অফিস।

jagonews24

২০১৬ সালের ৬ জুলাই কক্সবাজারকে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে জাতীয় সংসদে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০১৫ পাস হয়। ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) ফোরকান আহমেদকে নিয়োগ দেয় সরকার। টানা তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

সায়ীদ আলমগীর/এমআরআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।