মই বেয়ে উঠতে হয় সেতুতে

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মোংলা (বাগেরহাট)
প্রকাশিত: ০৩:৩৬ পিএম, ১৭ মে ২০২২

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার হুড়কা ইউনিয়নের বগুড়া নদীর ওপর নির্মাণাধীন বগুড়া খেয়াঘাট সেতুটির কাজ গত চার বছরেও শেষ হয়নি। সংযোগ সড়কের ব্যবস্থা না থাকায় বাঁশের মই দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন স্থানীয়রা।

তবে উপজেলা প্রকৌশলীর ভাষ্য, করোনা মহামারিতে সেতুর নির্মাণকাজ বিলম্ব হচ্ছে। সংযোগ সড়কের জায়গা নিয়ে স্থানীয় দুই ব্যক্তি মামলা করায় দুই দফায় সেতুর নির্মাণকাজের সময় বাড়ানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এলজিইডির অর্থায়নে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে বগুড়া খেয়াঘাট সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইটি অ্যান্ড জেই। ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৯২ লাখ ৫১ হাজার ১৩৩ টাকা। এরই মধ্যে সেতুর ৯৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে জনসাধারণের চলাচলের জন্য সেতুটি উম্মুক্ত করে দেওয়ার কথা বলা হলেও তা সম্ভব হয়নি। নতুন করে মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী জুন মাসে সেতুর উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ।

সরেজমিনে দেখা যায়, হুড়কা ইউনিয়নের বেলাই, ভেকটমারী, গাজিখালী, কাঠামারী, নলবুনিয়া, গজগজিয়া, হুড়কা, চাড়াখালী ও ছিদামখালী গ্রামের প্রায় সাত হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম বগুড়া খেয়াঘাট সেতু। সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ এখনো শেষ হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে বাঁশের মই দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় অমল দাস বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে দেখছি সেতুর কাজ হচ্ছে। কাজ কবে শেষ হবে তা কেউ জানেন না। রামপাল সদর, মোংলা ও বাগেরহাট যাওয়ার জন্যই আমাদের এই নদী পার হতে হয়। মই বেয়ে সেতু দিয়ে ওঠানামা করতে হয়। আমরা কী করবো, আমাদেরতো বিকল্প কোনো উপায় নেই।’

Setu-(1).jpg

স্থানীয় সুজন মজুমদার জানান, হুড়কা ইউনিয়নের বেশিরভাগ মানুষ দরিদ্র। তারা কৃষিকাজ, মৎস্য ও মোংলা ইপিজেডে শ্রমিকের কাজ করেন। বগুড়া নদী পার হয়ে তাদের শহরের যাতায়াত করতে হয়। এছাড়া যাতায়াতের বিকল্প যে পথটি রয়েছে সেটি প্রায় ১০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। তাই হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের সহজ মাধ্যম এই সেতুটি দ্রুত মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার জোর দাবি জানাই।

হুড়কা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তপন কুমার গোলদার বলেন, সেতুর নির্মাণকাজ অনেক আগেই শেষ হতো। সমস্যা হচ্ছে সেতুর এক অংশের সংযোগ সড়ক নিয়ে। সংযোগ সড়কটির কিছু অংশে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা খিরোজ দাস ও প্রতাপ রায় নামের দুই ব্যক্তি মামলা করেন। ওই মামলার কারণে সেতুর সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, ‘জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বাবদ খিরোজ দাসকে দুই লাখ ও প্রতাপ রায়কে এক লাখ ২৫ হাজার দেওয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। ফলে দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করে সেতুটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা প্রকৌশলী গোলজার হোসেন বলেন, এরই মধ্যে সেতুর ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন সংযোগ সড়কের কাজ চলছে। আগামী জুন মাসে সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

এসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]