১৯ বছর পর গাজীপুর জেলা আ’লীগের সম্মেলন বৃহস্পতিবার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাজীপুর
প্রকাশিত: ১১:২৯ এএম, ১৮ মে ২০২২
সম্মেলনকে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে বিশাল প্যান্ডেল

গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন দীর্ঘ ১৯ বছর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মে) গাজীপুরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ি মাঠে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশাল প্যান্ডেল। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সম্মেলনকে ঘিরে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। নেতাকর্মীরা পছন্দের প্রার্থীর ছবি দিয়ে তৈরি করছেন ব্যানার-ফেস্টুন। বিশেষ করে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে জয়দেবপুর শহরের রাজবাড়ি মাঠ পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সড়কের ওপর স্থাপন করা হয়েছে বেশ কিছু তোরণ। আর সড়কের দুই পাশে কয়েকশ ব্যানার-ফ্যাস্টুন শোভা পাচ্ছে।

নেতাকর্মীদের মধ্যে ঘুরে-ফিরে আলোচনা একটাই, এবারের সম্মেলনে কারা আসছেন নেতৃত্বে। বিশেষ করে শীর্ষ দুই পদকে নিয়েই সবার আগ্রহ। ইউনিয়ন থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে নতুন ও পুরাতন নেতাদের আমলনামা নিয়ে। কারা নেতৃত্বে আসলে জেলা আওয়ামী লীগ আরো শক্তিশালী হবে, তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।

গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৩ সালের ২৯ জুন। ওই সম্মেলনে তৎকালীন গাজীপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক সভাপতি এবং টঙ্গী পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট আজমতউল্লাহ খান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৩ বছর পর ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর সম্মেলন ছাড়াই কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ বর্তমান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে পুনরায় সভাপতি এবং ইকবাল হোসেন সবুজকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করে।

২০১৭ সালের ২২ জুলাই জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। এরপর আর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি।

সম্মেলনকে ঘিরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে বিভিন্ন জনের নাম নেতাকর্মীদের মুখে মুখে শোভা পাচ্ছে। সভাপতি পদে যাদের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসছে তারা হলেন- বর্তমান সভাপতি আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং গাজীপুর জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, বর্তমান প্রশাসক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি-জিএস আখতারউজ্জামান।

jagonews24

আ ক ম মোজাম্মেল হক ছাত্রাবস্থায় পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সহ-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তৎকালীন গাজীপুর মহকুমা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭৩ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি তিনবার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৯ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত চারবার পৌর চেয়ারম্যান ও মেয়র নির্বাচিত হন। এছাড়া ১৯৭৬ সাল থেকে তিনি গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে পৌর মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করে গাজীপুর-১ আসন থেকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হন। এরপর ২০১৪ ও ২০১৯-ও সালে গাজীপুর-১ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন।

এ সময় তিনি সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে ৬ জানুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের ধর্মমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন আ ক ম মোজাম্মেল।

আখতারউজ্জামান ১৯৮৯-১৯৮১ পর্যন্ত ডাকসুর জিএস এবং ১৯৮২-৮৩ সালে ডাকসুর ভিপির দায়িত্ব পালন পালন করেন। এছাড়া তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বর্তমানে গাজীপুরে জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্যও ছিলেন।

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন- জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আমানত হোসেন খান, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সাবেক মন্ত্রী মরহুম রহমত আলীর ছেলে জামিল হাসান দূর্জয়, শ্রীপুর উপজেলা উপজেলা পরিষেদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান আরিফ।

এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজের বিরুদ্ধে গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পরিবর্তে তাদের এলাকায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। তাদের নির্বাচনী এলাকায় নৌকার প্রার্থী পরাজিত হয়।

জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন দেলু জাগো নিউজকে বলেন, সভাপতি-সম্পাদক পদের জন্য এখন পর্যন্ত কেউ আগ্রহ প্রকাশ করেননি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কারো কারো পক্ষে সমর্থকরা প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন। সম্মেলনের দিন দ্বিতীয় অধিবেশনে আগ্রহী প্রার্থীদের নাম জানা যাবে। তবে সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

মো. আমিনুল ইসলাম/এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।