গো-খাদ্যের চড়া দামে বিপাকে সিরাজগঞ্জের খামারিরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৪:১৯ পিএম, ১৯ মে ২০২২
সিরাজগঞ্জের একটি গরুর খামার

সিরাজগঞ্জে ক্রমাগত বেড়েই চলছে গো-খাদ্যের দাম। এতে বিপাকে পড়েছেন জেলার ছোট-বড় সব ধরনের খামারিরা। এভাবে খাদ্যের দাম বাড়তে থাকলে অচিরেই খামারগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, সিরাজগঞ্জে ১৩ হাজার ৪৮০টি খামার। এসব খামারে গবাদিপশু প্রায় ১৩ লাখ ৩৫ হাজার। এসব গবাদিপশুর জন্য প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ গো-খাদ্য প্রয়োজন। বর্তমানে গো-খাদ্যের দাম বাড়ার কারণে খামারিরা বিপাকে পড়েছেন।

jagonews24

জেলার শাহজাদপুর উপজেলার সামাদ ফকির বলেন, আমার একটি গরুর খামার আছে। খামার থেকে যা দুধ উৎপাদন হয় তা মিল্কভিটা কোম্পানিতে দিই। তবে বর্তমানে গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় খামার পরিচালনায় ব্যয় বাড়ছে। এভাবে যদি খাদ্যের দাম বাড়তে থাকে তবে আমার মতো খামারিদের চলা কঠিন হয়ে যাবে।

পোতাজিয়া গ্রামের খামারি মোহাম্মদ আলী বলেন, সারাদেশের দুধের চাহিদা মেটাতে আমাদের শাহজাদপুরের বিভিন্ন খামার থেকে প্রতিদিন মিল্কভিটাসহ বিভিন্ন দুগ্ধ কোম্পানিতে প্রায় আড়াই ২ লাখ লিটার দুধ সরবরাহ করে হয়। বর্তমানে গো-খাদ্যের দাম অনেক বেশি। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভুসির বস্তায় দাম বেড়েছে তিন থেকে সাড়ে তিনশো টাকা, ফিডের দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি চার থেকে সাড়ে চারশো টাকা। ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে জমিতেই খড় নষ্ট হয়েছে। এছাড়া খৈলের দামও বেড়েছে।

তিনি বলেন, গরুর চাহিদামতো আমরা খাবার দিতে পারছি না। যার কারণে দুধও এখন কম হচ্ছে। এদিকে চাহিদানুযায়ী খাবার দিলে আবার দামের কারণে লোকসান গুনতে হয়। খাদ্যের দাম না কমলে আমাদের খামার বন্ধ করে অন্য ব্যবসা করে জীবিকানির্বাহ করতে হবে।

jagonews24

সিরাজগঞ্জের গোখাদ্যের পাইকারি বিক্রেতা মোহাম্মদ আলী বলেন, বর্তমানে ভুসি, ফিড, খৈল, সয়াবিনসহ সব ধরনের খাবারের দাম বেড়েছে। আমরা যেমন দামে কিনে আনছি তেমন দামেই বিক্রি করছি। খাদ্যের দাম কমলে তখন কম দামে বিক্রি করবো।

এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গৌরাঙ্গ কুমার তালুকদার বলেন, ভুসি, সয়াবিন, খৈলসহ অন্য দানাদার খাদ্যের দাম বেড়েছে। তবে খড় ও কাঁচা ঘাসের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। তাই আমরা খামারিদের বলছি, তারা যেন শুধু দানাদার খাদ্যের ওপর নির্ভর না করে গবাদিপশুকে কাঁচা খাস খাওয়ান।

এমআরআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]