ব্লাড ব্যাংকের রশিদে আড়াইশো, নেওয়া হলো দেড় হাজার!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৬:৪৫ পিএম, ১৯ মে ২০২২

 

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে রোগীর কাছ থেকে রক্তের অতিরিক্ত মূল্য রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৯ মে) সকালে হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক ভুক্তভোগী।

অভিযোগকারীর নাম সুভাষ সরকার। তিনি নাসিরনগর উপজেলার সিংহগ্রামের বাসিন্দা।

jagonews24অভিযোগকারী সুভাষ সরকার ও তার মেয়ে

সুভাষ জাগো নিউজকে বলেন, আমার মেয়ে কল্পনা সরকার শারীরিক সমস্যার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে। গত মঙ্গলবার (১৭ মে) রাতে তাকে জেলা সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করি। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানায়, তাকে তিন ব্যাগ রক্ত দিতে হবে। হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে রক্তের জন্য গেলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে সেখানে থাকা রতন মিয়া নামে এক স্টাফ প্রতি ব্যাগ রক্ত দুই হাজার টাকা করে দিতে হবে বলে দাবি করেন। পরে তিনি প্রতি ব্যাগ রক্ত দেড় হাজার টাকার কমে দেওয়া যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। রাতে বাধ্য হয়ে দুই ব্যাগ রক্ত তিন হাজার টাকা দিতে কিনে আমার মেয়েকে দিই।

তিনি বলেন, এর পরদিন বুধবার সকালে আরও এক ব্যাগ রক্ত একই ব্লাড ব্যাংক থেকে দেড় হাজার টাকায় কিনে দিতে হয়েছে। আমার তিন ব্যাগ রক্ত কিনতে সাড়ে ৪ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। কিন্তু তিন ব্যাগ রক্ত হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের প্রতিটি রশিদে আড়াইশো টাকা করে দেখানো হয়েছে। এ বিষয়ে আমি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে তিনজন দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এরমধ্যে সকালে ইনচার্জ সাবিনা ইয়াসমিন টাকা ও রশিদের দায়িত্বে রয়েছেন। দুপুর আড়াইটা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন সজিব আহমেদ। আর রতন মিয়া রক্ত সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করেন।

অভিযোগের সঙ্গে জমা দেওয়া তিনটি রশিদে একটিতে ইনচার্জ সাবিনা ইয়াসমিন ও অপর দুটিতে রতন মিয়ার সাক্ষর রয়েছে। আর প্রতি ব্যাগ রক্তের সংগ্রহ মূল্য আড়াইশো টাকা নির্ধারণ করা আছে।

jagonews24

এই বিষয়ে ব্লাড ব্যাংকের ইনচার্জ সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, আমি সরকারনির্ধারিত মূল্যে শুধু রশিদ দিয়েছি। এখানে ডোনারের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে রক্ত নেওয়া হয়েছে কি না জানি না। তিনি আরও বলেন, ব্লাড ব্যাংকে রক্ত বিক্রি করার নিয়ম নেই।

রক্ত সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা রতন মিয়া বলেন, আমরা অতিরিক্ত টাকা নিইনি। ওই ব্যক্তি রাতে রোগী নিয়ে এসেছিল রক্তের জন্য। তখন আমাদের সংরক্ষণে রক্ত ছিল না। তারা অনুরোধ করায় বাইরে থেকে ডোনার সংগ্রহ করে রক্ত দেওয়া হয়েছে। তাকে টাকা দিতে হয়েছে।

এ বিষয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ওয়াহেদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এমআরআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]