ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্যাতনের ঘটনা মাকে বলায় ছাত্রকে পেটালেন অধ্যক্ষ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১২:২৩ পিএম, ২০ মে ২০২২

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় ছাত্রাবাসে নির্যাতনের ঘটনা মায়ের কাছে বলায় এক ছাত্রকে মেঝেতে ফেলে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৯ মে) দুপুরে ভুক্তভোগী ছাত্রের মা সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

মারধরের শিকার ওই ছাত্র কসবা উপজেলার এক দুবাই প্রবাসীর ছেলে। সে উইজডম স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ওই ছাত্র বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে থেকে পড়াশোনা করে। ছাত্রাবাসের নবম শ্রেণির অন্য তিন ছাত্র মেয়ে সুলভ আচরণ করে তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। এতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সে।

১৬ মে ওই ছাত্রের মা বিদ্যালয়ে ছেলের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় ছেলের চেহারা ও নাক-মুখ ফোলা দেখে তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। ছেলে নির্যাতন ও উত্ত্যক্তের ঘটনা মায়ের কাছে খুলে বলে। ওই রাতেই তার মা ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক ও প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আবদুল মোনায়েমের স্ত্রীর নাজমা আক্তারকে বিষয়টি মোবাইল ফোনে জানান।

বুধবার সকালে ছেলেকে বিদ্যালয়ে দিয়ে শহরে যান ছেলেটির মা। সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০ টার দিকে বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আবদুল মোনায়েম নির্যাতনের শিকার ও অভিযুক্ত ছাত্রদের নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে নির্যাতনকারী তিন শিক্ষার্থীকে তিনি দুটি করে বেত্রাঘাত করেন এবং নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীকে বুকে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দিয়ে বেত্রাঘাত করেন। বিকেলে বিদ্যালয়ে গেলে মাকে ঘটনা খুলে বলে ওই ছাত্র। পরে তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানান।

ভুক্তভোগী ছাত্রের মা বলেন, ‘হোস্টেলে আমার ছেলেকে অন্য তিন ছাত্র বেশ কয়েকদিন ধরে নির্যাতন করে আসছিল। তার সঙ্গে মেয়ে সুলভ আচরণ করে। বিষয়টি বাড়িতে এসে ছেলে আমাকে বলে। নির্যাতনের বিষয়টি আমার কাছে বলায় প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়েছে। ছেলের বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুল কালো হয়ে আছে।’

এ নারী আরও বলেন, ‘পুলিশকে জানানোয় হোস্টেল সুপার আমার সঙ্গে খুবই অশোভন ও খারাপ আচরণ করেছেন। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন, যা ভাষায় বর্ণনা করা যাবে না। ছেলে তার সমস্যার কথা মাকে বলবে না তো কাকে বলবে।’

এ বিষয়ে ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক নাজমা আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি তো বকাবকি জানিই না। করবো কীভাবে। ওই শিক্ষার্থীর মা বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। কিন্তু তিনি অপেক্ষা করেননি। আর আমরা একটা বাচ্চাকে তো আর বের করে দিতে পারি না।’

নির্যাতনের শিকার ছাত্রকে মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থী আমাদের না জানিয়ে বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি পরিবারকে জানিয়েছে। তাই অধ্যক্ষ তাকে একটু বেত দিয়ে বাড়ি দিয়েছে।’

উইজডম স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল মোনায়েম জাগো নিউজকে বলেন, ‘তিন শিক্ষার্থীকে ডেকে শাসন করেছি। আমাদের না জানিয়ে ঘটনার বিষয়ে ওই শিক্ষার্থী আগে তার অভিভাবককে জানিয়েছে। তাই তিন শিক্ষার্থীর সঙ্গে তাকেও হালকা একটু শাসন করেছি।’

অধ্যক্ষ আরও বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক বিদ্যালয়ে ডিবি পুলিশ নিয়ে আসে। আমরা পুলিশের সঙ্গেও কথা বলেছি।’

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘এক শিক্ষার্থীর মা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর স্কুলে পুলিশ পাঠানো হয়। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি।’

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসজে/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]