ঠিকাদারের কাছে স্কুলমাঠ ভাড়া, ইট ভাঙার শব্দে ব্যাহত পাঠদান

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গোপালগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৭:৫০ পিএম, ২৫ মে ২০২২

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বান্ধাবাড়ি জেবিপি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ঠিকাদারের কাছে ভাড়া দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয়ের মাঠ ভরে রাখা হয়েছে ইট-খোয়াসহ নানা ধরনের নির্মাণসামগ্রী। প্রতিদিনই মেশিন দিয়ে এসব ইট ভাঙা হচ্ছে। ইট ভাঙার শব্দে পাঠদান বিঘ্ন হচ্ছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার নাগরা-বান্ধাবাড়ি-রাশমীল সড়কে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী বান্ধাবাড়ি জেবিপি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জড়ো করে রাখা হয়েছে। মাঠজুড়ে খোয়া আর ইটের স্তুূপ।

সাত লাখ টাকার বিনিময়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক মাঠটি ভাড়া দিয়েছেন। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য কামাল হোসেন বলেন, বর্তমানে জেবিপি উচ্চ বিদ্যালয় ও বান্ধাবাড়ি হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রয়েছে। এই দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই মাঠটিতে খেলাধুলা করে। মাঠটিতে নির্মাণসামগ্রী রাখায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছে না। বিদ্যালয় চলাকালীন মেশিন দিয়ে ইট ভাঙার শব্দে পাঠদানেও সমস্যা হচ্ছে।

বান্ধাবাড়ি হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী বলে, ‘বিদ্যালয় মাঠে ইট-খোয়া রাখার কারণে আমরা খেলাধুলা করতে পারছি না। স্কুল সময়ে মেশিন দিয়ে ইট ভাঙা হয়। এতে আমাদের ক্লাস করতে সমস্যা হচ্ছে।’

jagonews24

এ বিষয়ে বান্ধাবাড়ি জেবিপি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ আব্দুর রশিদ বলেন, বিদ্যালয়ের যে মাঠটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে তা আমাদের বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ব্যবহার করে না। ওই মাঠটি আমাদের হলেও বান্ধাবাড়ি হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করে।

তিনি আরও বলেন, মাঠটিতে কিছুদিনের জন্য নাগরা-বান্ধাবাড়ি-রাশমীল সড়ক নির্মাণকাজের সামগ্রী রাখার জন্য জসিমউদ্দিন নামের এক ঠিকাদারের কাছে ৫০ হাজার টাকা ও একটি সিসিটিভি মনিটরের বিনিময়ে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এখানে সাত লাখ টাকার বিষয়টি ভিত্তিহীন।’

বান্ধাবাড়ি হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন ছাত্রের অভিভাবক সবুজ ঘরামী বলেন, ‘শুনেছি মাঠটি সাত লাখ টাকায় ভাড়া দেওয়া হয়েছে। মাঠ ভাড়া দেওয়ায় দুই বিদ্যালয়েরই শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।’

ঠিকাদার মো. জসিমউদ্দিন বলেন, ‘আমি তিনমাসের জন্য মাঠটি ভাড়া নিয়েছি। বিনিময়ে বিদ্যালয়ে ৫০ হাজার টাকা ও একটি সিসিটিভি মনিটর দিতে হবে।’

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ ভাড়া দেওয়ার কোনো বিধান নেই। বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেহেদী হাসান/এসআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]