নড়াইলে ৫ মাস ধরে চিকিৎসাসামগ্রী সংকট, ব্যাহত চিকিৎসাসেবা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নড়াইল
প্রকাশিত: ০৮:২৫ পিএম, ২৫ মে ২০২২
লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় পাঁচ মাস ধরে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ নেই। এতে চিকিৎসক ও নার্সরা সেবা দিতে যেমন হিমশিম খাচ্ছেন, তেমনি দরিদ্র রোগীরা পড়েছেন বিপাকে। তবে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ কবে হবে তা নিশ্চিত করতে পারেনি উপজেলা ও জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন।

লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি চাহিদা গ্যাসট্রিক, ডায়াবেটিস ও প্রেশারের ওষুধের। তবে এর কোনোটিই নেই। এছাড়া ঠান্ডা, এলার্জির জন্য হিসটাসিন ও অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ এজিথ্রোমাইসিন বেশি চলে, এগুলোও নেই। প্রায় পাঁচ মাস ধরে হাসপাতালে রিএজেন্ট (প্যাথলজি পরীক্ষা করার কিট) নেই। তাই সব প্যাথলজি পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।

নার্সরা বলছিলেন, চিকিৎসাসেবা চালাতে গেলে ক্যানুলা, সিরিঞ্জ ও স্যালাইন অতিপ্রয়োজনীয়। অথচ তিন-চার মাস ধরে এগুলোর সরবরাহ নেই।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমরা আগে অধিকাংশ ওষুধই হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করতে পারতাম। এতে রোগীরা সন্তুষ্ট ছিলেন। কিন্তু গত ডিসেম্বরের শেষ থেকে হাসপাতালে ৯০ ভাগ ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী নেই। তাই চিকিৎসা কার্যক্রম চালাতে নানা সমস্যা হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ৫০-৭০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। এছাড়া বহির্বিভাগে তিনশো থেকে পাঁচশো রোগী প্রতিদিন ভিড় জমান। হাসপাতালে আসা এসব রোগীর অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের। তাদের পক্ষে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনা সম্ভব নয়। এতে রোগীরা বিপাকে পড়েছে।

লোহাগড়ার রঘুনাথপুর গ্রামের টুটুল শেখ তার আট বছর বয়সী ছেলে তামিমকে ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে এ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

টুটুল বলেন, আমি গরিব মানুষ বলে হাসপাতালে এসেছি। কাছে ছিল মাত্র ৫০০ টাকা। আমার ওষুধ, স্যালাইনসহ সবকিছু কিনতে হচ্ছে। দোকানে বাকি রেখেছি।

আরএমও আব্দুল্লাহ আল মামুন জাগো নিউজকে বলেন, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনার জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন লাগে। এরপরই ঠিকাদাররা ওষুধ কিনতে পারেন। সেই অনুমোদন না পাওয়ায় ঠিকাদাররা ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কিনতে পারেননি। এজন্য এই সংকট তৈরি হয়েছে।

নড়াইলের সিভিল সার্জন নাছিমা আকতার জাগো নিউজকে বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন না হওয়ায় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী ঠিকাদাররা কিনতে পারেননি। কবে অনুমোদন হবে তাও নিশ্চিত বলতে পারছি না। তবে গত সোমবার এসেনশিয়াল ড্রাগ কোম্পানির কিছু ওষুধ হাসপাতালে এসেছে।

হাফিজুল নিলু/এমআরআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]gmail.com